যশোরের মণিরামপুরে একটি ক্ষ্যাপা কুকুরের অতর্কিত হামলায় নারী-পুরুষসহ অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার (৮ ও ৯ জানুয়ারি) দুই দিনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হঠাৎ পথচারী ও যানবাহনের আরোহীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কুকুরটি একের পর এক মানুষকে কামড়ে রক্তাক্ত করে দেয়।
আহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিরা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে, গত দুই মাস ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক (র্যাবিস) ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকায় ভুক্তভোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে টিকা পাওয়ার আশা নিয়ে আসা রোগীরা এখন বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে বাজার থেকে ভ্যাকসিন কিনছেন।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তায় চলাচলকারী ইজিবাইক, ভ্যান ও বাইসাইকেলে থাকা নারী-পুরুষদের ওপরও ক্ষ্যাপা কুকুরটি আচমকা হামলা চালিয়েছে। আহতদের হাত, পা, উরু এমনকি গালেও কামড়ের গভীর ক্ষত দেখা গেছে। একটিমাত্র কুকুরের এমন আগ্রাসী আচরণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পাড়দীয়া গ্রামের ইজিবাইক চালক মাহাবুবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে রাজগঞ্জ বাজারের উদ্দেশে রওনা হয়ে ডিসপেনসারি মোড়ে যাত্রী তোলার সময় কুকুরটি আচমকা তার ডান পায়ে কামড়ে দেয়। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। একই সময়ে তার ইজিবাইকে থাকা যাত্রী হাসানও কুকুরের কামড়ে আহত হন। এছাড়া, ঝাঁপা গ্রামের রামপদ দাস, মনোহরপুর গ্রামের খলিলুর রহমান ও নাছিমা বেগম, দুর্গাপুর গ্রামের ফরিদা বেগমসহ মশ্মিমনগর, গালদা, রাজগঞ্জ, কাশিপুর ও ঘুঘুরাইল এলাকার অন্তত ৬০ জন কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী আশিকুর রহমান, আমিনুর রহমান ও রামপদ দাসসহ কয়েকজন জানান, তাদের পারিবারিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাওয়ার আশায় তারা এসেছিলেন। কিন্তু ভ্যাকসিন না থাকায় ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দামে বাজার থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. অনুপ কুমার বসু নিশ্চিত করেছেন যে ৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফায়াজ আহমেদ ফয়সাল জানান, গত দুই মাস ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের মজুদ নেই। নতুন করে সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ২০০ ডোজ জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে এবং রবিবার (১১ জানুয়ারি) এর মধ্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুক্রবার রাতেও কুকুরের কামড়ে আহত রোগীরা হাসপাতালে আসছিলেন বলে ওয়ার্ডবয় আক্তার হোসেন জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























