ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

হাদি হত্যায় ভারতের সম্পৃক্ততার দাবি ‘ভিত্তিহীন’: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারত ও আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনা দাবি করেন, হাদি হত্যাকাণ্ড মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশে বিরাজমান চরম বিশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী সহিংসতারই সরাসরি পরিণতি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার নিজেদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ঢাকতে এবং উগ্রবাদী শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় মুখোশধারী বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত হন শরীফ ওসমান হাদি, যিনি পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের সঙ্গে হাদির হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র স্থাপন করার এই ‘মনগড়া বয়ান’ কেবল জনমতের উগ্রবাদীকরণ এবং দুই দেশের কয়েক দশকের দীর্ঘ বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং এটি দেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ড. ইউনূসের সরকার উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোকে তুষ্ট করতে এবং সাধারণ মানুষের মনোযোগ মূল সমস্যা থেকে সরিয়ে নিতে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সাজাচ্ছে। তিনি ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের এই হঠকারী পররাষ্ট্রনীতি কেবল অদূরদর্শী নয়, বরং অত্যন্ত বিপজ্জনক। উল্লেখ্য যে, হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ব্যাপক অরাজকতা সৃষ্টি হয় এবং একাধিক সংবাদপত্রের কার্যালয়সহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলা চালানো হয়। ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যে এই অভিযোগগুলোকে ‘ভুয়া বয়ান’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

হাদি হত্যায় ভারতের সম্পৃক্ততার দাবি ‘ভিত্তিহীন’: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ০২:১৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারত ও আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনা দাবি করেন, হাদি হত্যাকাণ্ড মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশে বিরাজমান চরম বিশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী সহিংসতারই সরাসরি পরিণতি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার নিজেদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ঢাকতে এবং উগ্রবাদী শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় মুখোশধারী বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত হন শরীফ ওসমান হাদি, যিনি পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের সঙ্গে হাদির হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র স্থাপন করার এই ‘মনগড়া বয়ান’ কেবল জনমতের উগ্রবাদীকরণ এবং দুই দেশের কয়েক দশকের দীর্ঘ বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং এটি দেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ড. ইউনূসের সরকার উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোকে তুষ্ট করতে এবং সাধারণ মানুষের মনোযোগ মূল সমস্যা থেকে সরিয়ে নিতে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সাজাচ্ছে। তিনি ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের এই হঠকারী পররাষ্ট্রনীতি কেবল অদূরদর্শী নয়, বরং অত্যন্ত বিপজ্জনক। উল্লেখ্য যে, হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ব্যাপক অরাজকতা সৃষ্টি হয় এবং একাধিক সংবাদপত্রের কার্যালয়সহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলা চালানো হয়। ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যে এই অভিযোগগুলোকে ‘ভুয়া বয়ান’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।