ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা: মাঠে থাকছে সশস্ত্র বাহিনী ও ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চার দিন আগে থেকে ভোটের দুদিন পর পর্যন্ত মাঠে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাকোন বাহিনী কোথায় কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে, তা চূড়ান্ত করে বুধবার পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। ভোট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি ও কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এ নির্বাচনে থাকছে ৪২ হাজার ৭৬১ ভোটকেন্দ্র; যাতে ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটকক্ষ থাকবে।

৩০০ আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটকেন্দ্রে যারা থাকবেন

মহানগর এলাকা, মহানগরের বাইরে এবং বিশেষ এলাকায় সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ১৮ জন করে পুলিশ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার, ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন।

কেন্দ্রের গুরুত্ব অনুযায়ী অস্ত্রসহ ২ থেকে ৪ জন পুলিশ সদস্য রাখা হবে।

সাধারণভাবে প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবেন—

  • পুলিশ: ২ জন (অস্ত্রসহ)
  • আনসার/ভিডিপি: ১ জন সেকশন কমান্ডার (অস্ত্রসহ)
  • প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় ১ জন আনসার (অস্ত্রসহ)
  • সহকারী সেকশন কমান্ডার: ১ জন (অস্ত্রসহ, প্রাপ্যতা সাপেক্ষে)
  • লাঠিসহ আনসার ও ভিডিপি: ১০ জন (নারী ৪, পুরুষ ৬)
  • গ্রাম পুলিশ: ১ বা ২ জন (দফাদার/মহল্লাদার)

পরিপত্রে বলা হয়েছে, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন মোতায়েন থাকবে।

মেট্রোপলিটন এলাকার ভেতরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন দায়িত্ব পালন করবেন।

পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখন থেকে মোতায়েন

  • প্রথম পর্বে পরিপত্র জারির পর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত সদস্যরা
  • দ্বিতীয় পর্বে (ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন) নির্বাচনের চার দিন আগে, নির্বাচনের দিন এবং ভোটের পর দুই দিন অর্থাৎ ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে
  • প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গ্রাম পুলিশ দফাদার/মহল্লাদার একজন, ক্ষেত্রবিশেষে দুজন করে সাত দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন
  • ভিডিপি সদস্যদের রিপোর্টিং ও প্রশিক্ষণ বিবেচনায় অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা এক দিন প্রশিক্ষণসহ মোট আট দিনের জন্য নিয়োজিত থাকবেন।

মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স

নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ অনুযায়ী মোবাইল টিমের দায়িত্ব নির্ধারিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিম পুনর্বিন্যাস করা যাবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল ও নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা

নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধানে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগসংক্রান্ত দায়িত্বে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার।

তিনি নিজ অধিক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন করবেন এবং বিভাগীয়/জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করবেন।

তবে নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে কর্মপরিকল্পনা নেবেন।

স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মোতায়েন করা সশস্ত্র বাহিনীও রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং বিশেষ প্রয়োজনে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির জন্য পুলিশ ফোর্স নিয়োজিত করার কথাও বলা হয়েছে পরিপত্রে।

রিটার্নিং অফিসারের চাহিদা অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জেলা ও উপজেলায় গঠিত আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, বিশেষ তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং চেকপোস্ট অপারেশন পরিচালনা করবে।

সশস্ত্র বাহিনী

পরিপত্রে বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী সমগ্র দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবেন। প্রয়োজনে নিরাপত্তা সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নির্দিষ্ট কেন্দ্রে স্ট্যাটিকভাবে অথবা ভোটকেন্দ্রিক দ্বিতীয় পর্ব মোতায়েনের অংশ হিসেবে কয়েকটি কেন্দ্রকে গ্রুপ করে মোবাইল টহলের আওতায় রাখাও হবে।

প্রাপ্যতা সাপেক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর টিমের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হবে এবং আইন, বিধি ও পদ্ধতিগতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

উপকূলবর্তী এলাকায় নৌবাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করবে।

সড়ক ও মহাসড়কে একক বা যৌথভাবে নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে (ট্যাকটিক ও মোবাইল) চেকপোস্ট অপারেশন পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধে অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হবে।

বিজিবি/কোস্ট গার্ড/আর্মড পুলিশ/আনসার ব্যাটালিয়ন

বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আর্মড পুলিশ এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। জেলা, উপজেলা ও থানাগুলোয় বিজিবি এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড দায়িত্বে থাকবেন।

বিজিবি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করতে পারবে এবং যৌথ বাহিনী অপারেশন ও চেকপোস্ট অপারেশনে অংশ নেবে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন

র‌্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ বাহিনী অপারেশন ও চেকপোস্টে অংশ নেবে।

কিছু কেন্দ্রে পুলিশের থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা

পুলিশ নির্বাচনি এলাকায় সামগ্রিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখবে। ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করাও পুলিশের দায়িত্ব। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব সরঞ্জাম ও দলিল-দস্তাবেজ বহনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

নির্বাচন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া নির্বাচন কার্যালয়, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের নিরাপত্তা বিধানও পুলিশ নিশ্চিত করবে।

স্থানীয় জননিরাপত্তা ও ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সুশৃঙ্খল লাইন করানো, স্থানীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশ ও মোবাইল/স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্ব। সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একজন বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।

প্রয়োজনমত যৌথ বাহিনী অপারেশন ও চেকপোস্টে অংশ নেবে।

আনসার ও ভিডিপি

প্রতি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় একজন অস্ত্রসহ আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব সরঞ্জাম ও দলিল-দস্তাবেজ বহনের সময় সহায়তা দেবে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সুশৃঙ্খল লাইন করানো এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে।

যন্ত্রচালিত যানবাহন ও নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ট্রাক, লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত বোট (নির্দিষ্ট রুট ছাড়া) এবং অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেলের চলাচলও নিষিদ্ধ।

নির্বাচনে প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারী, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনি এজেন্টদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। তবে পর্যবেক্ষক ও পোলিং এজেন্টদের যানবাহনে নির্বাচন কমিশনের স্টিকার ব্যবহার করতে হবে।

জাতীয় হাইওয়েগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার স্থানীয় প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় আরও কতিপয় যানবাহনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করতে পারবেন।

বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ

ঘোষিত তফসিল অনুসারে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাইসেন্সধারীরাও অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করতে পারবেন না।

তবে ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্বাচনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত প্রার্থীর সশস্ত্র রিটেইনারের ক্ষেত্রে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধের বিধান প্রযোজ্য হবে না।

ইসির মনিটরিং সেল

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য একটি সেল গঠন করা হবে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সহযোগিতা

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক দলকে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার আলোকে আইনানুগভাবে সহায়তা করতে হবে।

প্রচারে মানা

ভোট শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা এবং ভোটগ্রহণ শেষের পরের ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে কোন জনসভা, অনুষ্ঠান, মিছিল বা শোভাযাত্রা আহ্বান বা তাতে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ।

‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ

নির্বাচনের সময় কেন্দ্রের পরিস্থিতি জানাতে ব্যবহার করা হবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ।

এই অ্যাপ ব্যবহার করবেন মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৮৩ জন আনসার সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন করে ব্যবহারকারী থাকবেন।

কেন্দ্রে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির তথ্য অ্যাপে দিলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

অ্যাপটির কার্যক্রম শুরু হবে ১৬ জানুয়ারি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০ বছর আগের চুক্তিতে ট্রানজিট চায় নেপাল, বিদ্যুৎ চায় বাংলাদেশ

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা: মাঠে থাকছে সশস্ত্র বাহিনী ও ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ

আপডেট সময় : ০১:২৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চার দিন আগে থেকে ভোটের দুদিন পর পর্যন্ত মাঠে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাকোন বাহিনী কোথায় কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে, তা চূড়ান্ত করে বুধবার পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। ভোট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি ও কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এ নির্বাচনে থাকছে ৪২ হাজার ৭৬১ ভোটকেন্দ্র; যাতে ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটকক্ষ থাকবে।

৩০০ আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটকেন্দ্রে যারা থাকবেন

মহানগর এলাকা, মহানগরের বাইরে এবং বিশেষ এলাকায় সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ১৮ জন করে পুলিশ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার, ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন।

কেন্দ্রের গুরুত্ব অনুযায়ী অস্ত্রসহ ২ থেকে ৪ জন পুলিশ সদস্য রাখা হবে।

সাধারণভাবে প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবেন—

  • পুলিশ: ২ জন (অস্ত্রসহ)
  • আনসার/ভিডিপি: ১ জন সেকশন কমান্ডার (অস্ত্রসহ)
  • প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় ১ জন আনসার (অস্ত্রসহ)
  • সহকারী সেকশন কমান্ডার: ১ জন (অস্ত্রসহ, প্রাপ্যতা সাপেক্ষে)
  • লাঠিসহ আনসার ও ভিডিপি: ১০ জন (নারী ৪, পুরুষ ৬)
  • গ্রাম পুলিশ: ১ বা ২ জন (দফাদার/মহল্লাদার)

পরিপত্রে বলা হয়েছে, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন মোতায়েন থাকবে।

মেট্রোপলিটন এলাকার ভেতরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন দায়িত্ব পালন করবেন।

পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখন থেকে মোতায়েন

  • প্রথম পর্বে পরিপত্র জারির পর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত সদস্যরা
  • দ্বিতীয় পর্বে (ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন) নির্বাচনের চার দিন আগে, নির্বাচনের দিন এবং ভোটের পর দুই দিন অর্থাৎ ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে
  • প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গ্রাম পুলিশ দফাদার/মহল্লাদার একজন, ক্ষেত্রবিশেষে দুজন করে সাত দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন
  • ভিডিপি সদস্যদের রিপোর্টিং ও প্রশিক্ষণ বিবেচনায় অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা এক দিন প্রশিক্ষণসহ মোট আট দিনের জন্য নিয়োজিত থাকবেন।

মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স

নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ অনুযায়ী মোবাইল টিমের দায়িত্ব নির্ধারিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিম পুনর্বিন্যাস করা যাবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল ও নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা

নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধানে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগসংক্রান্ত দায়িত্বে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার।

তিনি নিজ অধিক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন করবেন এবং বিভাগীয়/জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করবেন।

তবে নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে কর্মপরিকল্পনা নেবেন।

স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মোতায়েন করা সশস্ত্র বাহিনীও রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং বিশেষ প্রয়োজনে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির জন্য পুলিশ ফোর্স নিয়োজিত করার কথাও বলা হয়েছে পরিপত্রে।

রিটার্নিং অফিসারের চাহিদা অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জেলা ও উপজেলায় গঠিত আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, বিশেষ তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং চেকপোস্ট অপারেশন পরিচালনা করবে।

সশস্ত্র বাহিনী

পরিপত্রে বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী সমগ্র দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবেন। প্রয়োজনে নিরাপত্তা সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নির্দিষ্ট কেন্দ্রে স্ট্যাটিকভাবে অথবা ভোটকেন্দ্রিক দ্বিতীয় পর্ব মোতায়েনের অংশ হিসেবে কয়েকটি কেন্দ্রকে গ্রুপ করে মোবাইল টহলের আওতায় রাখাও হবে।

প্রাপ্যতা সাপেক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর টিমের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হবে এবং আইন, বিধি ও পদ্ধতিগতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

উপকূলবর্তী এলাকায় নৌবাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করবে।

সড়ক ও মহাসড়কে একক বা যৌথভাবে নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে (ট্যাকটিক ও মোবাইল) চেকপোস্ট অপারেশন পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধে অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হবে।

বিজিবি/কোস্ট গার্ড/আর্মড পুলিশ/আনসার ব্যাটালিয়ন

বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আর্মড পুলিশ এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। জেলা, উপজেলা ও থানাগুলোয় বিজিবি এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড দায়িত্বে থাকবেন।

বিজিবি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করতে পারবে এবং যৌথ বাহিনী অপারেশন ও চেকপোস্ট অপারেশনে অংশ নেবে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন

র‌্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ বাহিনী অপারেশন ও চেকপোস্টে অংশ নেবে।

কিছু কেন্দ্রে পুলিশের থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা

পুলিশ নির্বাচনি এলাকায় সামগ্রিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখবে। ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করাও পুলিশের দায়িত্ব। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব সরঞ্জাম ও দলিল-দস্তাবেজ বহনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

নির্বাচন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া নির্বাচন কার্যালয়, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের নিরাপত্তা বিধানও পুলিশ নিশ্চিত করবে।

স্থানীয় জননিরাপত্তা ও ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সুশৃঙ্খল লাইন করানো, স্থানীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশ ও মোবাইল/স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্ব। সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একজন বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।

প্রয়োজনমত যৌথ বাহিনী অপারেশন ও চেকপোস্টে অংশ নেবে।

আনসার ও ভিডিপি

প্রতি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় একজন অস্ত্রসহ আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব সরঞ্জাম ও দলিল-দস্তাবেজ বহনের সময় সহায়তা দেবে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সুশৃঙ্খল লাইন করানো এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে।

যন্ত্রচালিত যানবাহন ও নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ট্রাক, লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত বোট (নির্দিষ্ট রুট ছাড়া) এবং অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেলের চলাচলও নিষিদ্ধ।

নির্বাচনে প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারী, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনি এজেন্টদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। তবে পর্যবেক্ষক ও পোলিং এজেন্টদের যানবাহনে নির্বাচন কমিশনের স্টিকার ব্যবহার করতে হবে।

জাতীয় হাইওয়েগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার স্থানীয় প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় আরও কতিপয় যানবাহনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করতে পারবেন।

বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ

ঘোষিত তফসিল অনুসারে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাইসেন্সধারীরাও অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করতে পারবেন না।

তবে ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্বাচনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত প্রার্থীর সশস্ত্র রিটেইনারের ক্ষেত্রে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধের বিধান প্রযোজ্য হবে না।

ইসির মনিটরিং সেল

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য একটি সেল গঠন করা হবে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সহযোগিতা

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক দলকে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার আলোকে আইনানুগভাবে সহায়তা করতে হবে।

প্রচারে মানা

ভোট শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা এবং ভোটগ্রহণ শেষের পরের ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে কোন জনসভা, অনুষ্ঠান, মিছিল বা শোভাযাত্রা আহ্বান বা তাতে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ।

‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ

নির্বাচনের সময় কেন্দ্রের পরিস্থিতি জানাতে ব্যবহার করা হবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ।

এই অ্যাপ ব্যবহার করবেন মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৮৩ জন আনসার সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন করে ব্যবহারকারী থাকবেন।

কেন্দ্রে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির তথ্য অ্যাপে দিলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

অ্যাপটির কার্যক্রম শুরু হবে ১৬ জানুয়ারি।