জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ঢাকার রায়েরবাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪টি মৃতদেহের মধ্য থেকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। শনাক্ত হওয়া আটজন শহীদই বুলেটবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন বলে সিআইডি নিশ্চিত করেছে। এই ডিএনএ শনাক্তকরণ কার্যক্রমকে ‘সত্যের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শহীদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার পেছনে লুকিয়ে আছে এক আবেগঘন কাহিনী। এক শহীদের মা নিয়মিত তার নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে সিআইডি অফিসে যেতেন এবং রায়েরবাজারের একটি গাছের নিচে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। অলৌকিকভাবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সেই নির্দিষ্ট গাছের নিচেই তার সন্তানের লাশের সন্ধান মিলেছে। সিআইডি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৯টি পরিবার নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে ডিএনএ নমুনা প্রদান করেছে, যার মধ্যে আটজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন—সোহেল রানা (৩৮), রফিকুল ইসলাম (৫২), আসাদুল্লাহ (৩২), মাহিন মিয়া (৩২), ফয়সাল সরকার (২৬), পারভেজ বেপারী (২৩), কাবিল হোসেন (৫৮) এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)।
প্রধান উপদেষ্টা তৎকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডকে ‘বর্বরোচিত’ উল্লেখ করে বলেন, নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনা করা যায় না। তিনি এই ফরেনসিক কার্যক্রমকে নিখোঁজদের পরিবারের চোখের পানি মোছার এবং ন্যায়বিচারের পথে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। সিআইডির এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন, যা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করেছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত এই কার্যক্রমটি চলমান রয়েছে। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে অংশ নিয়ে যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের পরিবার যেন ০১৩২০০১৯৯৯৯ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে ডিএনএ নমুনা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমসহ সিআইডি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























