ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

জয়-পরাজয়ের সমীকরণে ‘কিংমেকার’ তরুণ প্রজন্ম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে দেশের তরুণ ভোটাররাই প্রধান শক্তি ও ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি। বিশাল এই জনশক্তি আগামী দিনের রাজনীতির প্রচলিত সমীকরণ বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং সচেতন এই প্রজন্ম প্রার্থীদের যোগ্যতা বিচারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৮ জন। ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ১০৬ জন। ২৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন এবং ৩০ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৫ জন। অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। এই প্রজন্মের প্রত্যাশা প্রথাগত রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা এবং আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ওপর নিবদ্ধ। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও শিক্ষা সংস্কারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করছে।

অঞ্চলভিত্তিক ভোটার বিন্যাসে দেখা যায়, ঢাকা অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬৫ জন ভোটার রয়েছেন। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চল। বিপরীতে ফরিদপুর অঞ্চলে ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে কম। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ ড. মো. শাহজাহান জানান, তরুণ ভোটাররা তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহে বেড়ে ওঠায় তারা প্রথাগত স্লোগানের চেয়ে সুশাসন ও স্বচ্ছতার বিষয়ে বেশি আগ্রহী। তবে সাড়ে ৪ কোটি তরুণের পাশাপাশি ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২ কোটি প্রবীণ ভোটারের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবীণরা সাধারণত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিবেচনা করেন। ফলে যে দল তরুণদের উচ্ছ্বাস এবং প্রবীণদের আস্থার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারবে, তারাই ক্ষমতার সমীকরণে এগিয়ে থাকবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ‘চরম সন্ধিক্ষণে’ ডেনমার্ক: ট্রাম্পের হুমকির মুখে অনড় ফ্রেডেরিকসেন

জয়-পরাজয়ের সমীকরণে ‘কিংমেকার’ তরুণ প্রজন্ম

আপডেট সময় : ১২:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে দেশের তরুণ ভোটাররাই প্রধান শক্তি ও ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি। বিশাল এই জনশক্তি আগামী দিনের রাজনীতির প্রচলিত সমীকরণ বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং সচেতন এই প্রজন্ম প্রার্থীদের যোগ্যতা বিচারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৮ জন। ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ১০৬ জন। ২৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন এবং ৩০ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৫ জন। অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। এই প্রজন্মের প্রত্যাশা প্রথাগত রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা এবং আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ওপর নিবদ্ধ। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও শিক্ষা সংস্কারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করছে।

অঞ্চলভিত্তিক ভোটার বিন্যাসে দেখা যায়, ঢাকা অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬৫ জন ভোটার রয়েছেন। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চল। বিপরীতে ফরিদপুর অঞ্চলে ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে কম। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ ড. মো. শাহজাহান জানান, তরুণ ভোটাররা তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহে বেড়ে ওঠায় তারা প্রথাগত স্লোগানের চেয়ে সুশাসন ও স্বচ্ছতার বিষয়ে বেশি আগ্রহী। তবে সাড়ে ৪ কোটি তরুণের পাশাপাশি ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২ কোটি প্রবীণ ভোটারের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবীণরা সাধারণত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিবেচনা করেন। ফলে যে দল তরুণদের উচ্ছ্বাস এবং প্রবীণদের আস্থার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারবে, তারাই ক্ষমতার সমীকরণে এগিয়ে থাকবে।