ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সংসদ নির্বাচন: জনসংখ্যা-ভোটার সংখ্যার তারতম্য দূর করা যায়নি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ঢাকা-৮ এ ভোটার দুই লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন; আর ঢাকা-১৯ আসনে রয়েছেন সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন।

সবেচেয় বেশি ভোটা রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে; আট লাখ চার হাজার ৩৩৩ জন। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে গাজীপুর-৪ আসনে ভোটার এখন তিন লাখ ৩০ হাজার ৯৭৭ জন।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য আসনভিত্তিক ভোটার সংখ্যা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাঁচ লাখের কম ভোটার রয়েছে— এমন আসন রয়েছে ২৩৭টি। এর চেয়ে বেশি ভোটার বাকি ৬৩টি আসনে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ভোটার সংখ্যার সমতা আনার চেষ্টা হয়েছিল। সীমানা নির্ধারণে তা করতে গিয়ে ভোটার সংখ্যার জাতীয় গড় ধরা হয় চার লাখ ২০ হাজার ৫০০ জনের মতো।

জেলার ভেতরের আসনগুলোয় ভোটার তারতম্য ৩০% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, জেলায় ২ আসন অপরিবর্তিত রাখা, তিন পার্বত্য জেলার তিন আসন অক্ষুন্ন রাখাসহ ১২টি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এবার সীমানা নির্ধারণে বিশেষায়িত কমিটিও করা হয়। সময় স্বল্পতার মধ্যে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে কিছু আসনে এবারও জনসংখ্যা-ভোটার সংখ্যার তারতম্য দূর করা যায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোটার সংখ্যার তারতম্য—

>> ২ থেকে ৩ লাখ ভোটার রয়েছে, এমন নির্বাচনি এলাকা ২০টি

>> ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ ভোটার রয়েছে, এমন নির্বাচনি আসন রয়েছে ১০৩টি

>> ৪ থেকে ৫ লাখ ভোটারের আসন রয়েছে ১১৪টি

>>৫ লাখ থেকে ৬ লাখ ভোটার রয়েছে ৫২টি আসনে

>> ৬ থেকে ৭ লাখ ভোটারের আসন সংখ্যা ৭টি

>> ৭ থেকে ৮ লাখ ভোটার রয়েছে তিনটি আসনে; ঢাকা-১৯, গাজীপুর-১ ও নোয়াখালী-৪

>> ৮ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে কেবল গাজীপুর-২ আসনে।

ক্যাপশন: যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি করপোরেশন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম। ফাইল ছবি।

সীমানা নির্ধারণে বিশেষায়িত কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৩০০ আসনের খসড়া প্রকাশকালে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আমরা ৬৪ জেলার গড় ভোটার নির্ধারণ করেছি ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০। এটা ধরে একটি আসন বাড়ালে তা গাজীপুরে হবে। এ গড়ের কম বাগেরহাটে একটি আসন কমালে সমতা চলে আসে।”

৩০ জুলাই খসড়া প্রকাশ ও অগাস্টে দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি করে ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেট হয় ৩০০ আসনের। কিন্তু বাগেরহাট ও গাজীপুরে আসন সংখ্যায় হেরফের হলেও তফসিল ঘোষণার আগে ১১ ডিসেম্বর আবার পুরনো সীমানায় গেজেট করা হয়। এরপর মনোনয়নপত্র জমার আগে ২৬ ডিসেম্বর পাবনা-১ ও ২ এবং ফরিদপুর-২ ও ৪ আসনের সীমানায় গেজেট সংশোধন হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যায়ও পরিবর্তন আসে।

জানতে চাইলে রোববার নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, “আমরা একটা বিশেষায়িত কমিটির কথা বলেছিলাম; কতটা বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাও অবগত নই। ভোটার সংখ্যার কাছাকাছি সমতায় আনতে সিটি করপোরেশন, বড় জেলা, ছোট জেলা নিয়ে ক্যাটাগরি করা; পপুলেশন কোটা ধরা— এসব বিষয় এবার আসেনি, তাতে মেজর কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং পার্থক্যটা রয়ে গেছে।”

এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আব্দুল আলীম বলেন, “সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন সীমানা আইন প্রণয়ন ও এক্সারসাইজ না হওয়ায় ভোটার তারতম্য ‘অনেকটাই’ রয়েই গেছে কিছু আসনে। সময় স্বল্পতার কারণে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

“সীমানা নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এখন কিছু করার নেই। যতটুকু হয়েছে, তা দিয়ে ফেয়ার নির্বাচন হোক। আমাদের সুপারিশের চর্চা হয়নি, মানে ইন্টারন্যাশনাল গাইডলাইনেরও চর্চা হয়নি। কিন্তু পরের নির্বাচনে যেন একই রকম ঘটনা না ঘটে; অর্থাৎ সংস্কার কমিশন যে আইনের খসড়া দিয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই আগামী নির্বাচনে।”

আব্দুল আলীম জানান, ভোটার অনুপাতে নির্বাচনী ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ করায় এবার ইসির মনিটরিং জোরদার করা দরকার। নির্বাচনে ব্যয়টা মনিটরিং করা হয় না, নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে ফোকাস করা দরকার।

এবার নির্বাচনে পৌনে ১৩ কোটি ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় সাড়ে ছয় কোটির মতো; আর নারী আছেন প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ। ৩০০ আসনের মধ্যে ৭৩টিতে নারী ভোটার বেশি রয়েছেন।

নারী ভোটার ও পুরুষ ভোটারের ব্যবধান কমেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দেশের মোট ভোটার সংখ্যায় নারী ভোটার ও পুরুষ ভোটারের ব্যবধান আগে বেশি ছিল; ইসির উদ্যোগে এ গ্যাপ এবার কিছুটা হলেও কমেছে। কেন নারী ভোটার কম, নির্বাচন শেষে ভোটার তালিকার একটা অডিট করে তা বের করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

ছয় লাখের বেশি ভোটারের আসনগুলো হলো— ময়মনসিংহ-৪, সিলেট-১, কুমিল্লা-৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ঢাকা-১৮, যশোর-৩ ও কুড়িগ্রাম-২।

পাঁচ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে— নারায়ণগঞ্জ-৩, জামালপুর-৫, ময়মনসিংহ-২, বগুড়া-৫, কুড়িগ্রাম-১, রাজবাড়ী-২, দিনাজপুর-৬, কিশোরগঞ্জ-১, চট্টগ্রাম-৮, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ-৪, চাঁদপুর-৩, কক্সবাজার-৩, মুন্সীগঞ্জ-১, ঢাকা-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, কক্সবাজার-১, জামালপুর-৩, বগুড়া-৭, কুমিল্লা-১০, সাতক্ষীরা-২, কিশোরগঞ্জ-২, পাবনা-৫, সুনামগঞ্জ-৫, গাজীপুর-৩, চাঁদপুর-৫, বরগুনা-১, সিলেট-৪, নোয়াখালী-৩, চুয়াডাঙ্গা-১, ঠাকুরগাঁও-১, ফরিদপুর-১, রংপুর-৪, মুন্সীগঞ্জ-৩, রাঙ্গামাটি, সিলেট-৬, রংপুর-৩, ফেনী-৩, ঝিনাইদহ-২, গাইবান্ধা-৩, চট্টগ্রাম-১৫, পটুয়াখালী-১, নোয়াখালী-৫, নেত্রকোনা-২, সাতক্ষীরা-৩, ভোলা-৪, চট্টগ্রাম-৫, সুনামগঞ্জ-১, বরিশাল-৫, চাঁদপুর-২, কুমিল্লা-৩ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে।

চার লাখের বেশি ভোটারের আসন হলো— ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, সাতক্ষীরা-১, ফরিদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১১, নরসিংদী-৫, লক্ষ্মীপুর-২, চট্টগ্রাম-১০, চুয়াডাঙ্গা-২, চট্টগ্রাম-২, মৌলভীবাজার-৪, পাবনা-৩, মৌলভীবাজার-৩, সিরাজগঞ্জ-৬, নারায়ণগঞ্জ-৫, যশোর-২, ময়মনসিংহ-১, ঢাকা-৭, কুমিল্লা-৯, কুষ্টিয়া-২, দিনাজপুর-৫, নরসিংদী-১, কুমিল্লা-৫, সিরাজগঞ্জ-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, নওগাঁ-১, মানিকগঞ্জ-২, সিরাজগঞ্জ-২, ঢাকা-৯, রংপুর-৫, রাজশাহী-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, গাইবান্ধা-৪, টাঙ্গাইল-৬, হবিগঞ্জ-১, জয়পুরহাট-১, পাবনা-১, পঞ্চগড়-১, টাঙ্গাইল-৫, মানিকগঞ্জ-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, নীলফামারী-১, যশোর-৪, নেত্রকোনা-১, ঢাকা-১৪, বগুড়া-৬, নোয়াখালী-১, নীলফামারী-৪, শেরপুর-১, কিশোরগঞ্জ-৩, চট্টগ্রাম-৪, নাটোর-৪, লক্ষ্মীপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, কুষ্টিয়া-৩, নওগাঁ-৩, পাবনা-৪, শেরপুর-২, ঢাকা-১১, কুমিল্লা-১, টাঙ্গাইল-১, ফেনী-২, মাদারীপুর-২, লালমনিরহাট-২, ফরিদপুর-৩, জামালপুর-১, ঝিনাইদহ-৩, মাগুরা-১, রাজবাড়ী-১, নরসিংদী-৪, কিশোরগঞ্জ-৬, সিলেট-৫, সিরাজগঞ্জ-৫, কুষ্টিয়া-৪, রাজশাহী-৩, খুলনা-৬, বরিশাল-৪, কুমিল্লা-১১, দিনাজপুর-৪, নেত্রকোনা-৩, ঢাকা-৫, হবিগঞ্জ-৩, ঢাকা-২, গাইবান্ধা-১, টাঙ্গাইল-২, লক্ষ্মীপুর-৪, ময়মনসিংহ-৬, পঞ্চগড়-২, দিনাজপুর-১, মাগুরা-২, চট্টগ্রাম-৯, সিলেট-৩, দিনাজপুর-৩, শরিয়তপুর-২, টাঙ্গাইল-৮, শেরপুর-৩, গাইবান্ধা-২, চট্টগ্রাম-১৬, কুমিল্লা-৪, ময়মনসিংহ-১০, পিরোজপুর-২, নারায়ণগঞ্জ-১, ঢাকা-১৩, কিশোরগঞ্জ-৪, নাটোর-২, ভোলা-১, কুষ্টিয়া-১, লালমনিরহাট-১, ময়মনসিংহ-৭, খুলনা-৫, চাঁদপুর-৪, ঢাকা-১৬ ও মানিকগঞ্জ-৩।

তিন লাখের বেশি ভোটারের আসন— গোপালগঞ্জ-১, ভোলা-২, শরিয়তপুর-১, চট্টগ্রাম-১৩, হবিগঞ্জ-২, পিরোজপুর-১, নড়াইল-২, ঢাকা-১০, ভোলা-৩, ময়মনসিংহ-৫, কক্সবাজার-২, মাদারীপুর-৩, চট্টগ্রাম-১, বরিশাল-২, নীলফামারী-২, ফেনী-১, গাইবান্ধা-৫, সিরাজগঞ্জ-১, ময়মনসিংহ-৯, গোপালগঞ্জ-২, টাঙ্গাইল-৩, রংপুর-২, কুমিল্লা-৮, বাগেরহাট-৪, মুন্সীগঞ্জ-২, খুলনা-৪, ঢাকা-২০, বগুড়া-১, পটুয়াখালী-৩, কক্সবাজার-৪, বাগেরহাট-১, টাঙ্গাইল-৭, নেত্রকোনা-৪, রংপুর-১, কুমিল্লা-২, টাঙ্গাইল-৪, যশোর-৫, পাবনা-২, সুনামগঞ্জ-৩, নওগাঁ-২, সুনামগঞ্জ-৪, দিনাজপুর-২, রাজশাহী-২, সিলেট-২, কুড়িগ্রাম-৩, নাটোর-১, ঝালকাঠী-২, ঠাকুরগাঁও-৩, নারায়ণগঞ্জ-২, নওগাঁ-৫, কুড়িগ্রাম-৪, ঢাকা-৪, ঢাকা-৩, নোয়াখালী-২, বগুড়া-৪, ময়মনসিংহ-১১, রাজশাহী-৬, চাঁদপুর-১, রংপুর-৬, গাজীপুর-৫, কিশোরগঞ্জ-৫, রাজশাহী-৫, চট্টগ্রাম-১২, ঢাকা-১৫, জয়পুরহাট-২, ময়মনসিংহ-৮, নওগাঁ-৬, বগুড়া-২, শরিয়তপুর-৩, ঠাকুরগাঁও-২, চট্টগ্রাম-৬, নোয়াখালী-৬, বগুড়া-৩, বাগেরহাট-২, মৌলভীবাজার-১, বরগুনা-২, খুলনা-২, নওগাঁ-৪, ঢাকা-১৭, ঝিনাইদহ-৪, ঢাকা-১২, বরিশাল-৩, ফরিদপুর-২, গাজীপুর-৪, কুমিল্লা-৭, বরিশাল-১, নাটোর-৩, ঝিনাইদহ-১, মাদারীপুর-১, রাজশাহী-৪, চট্টগ্রাম-৭, মেহেরপুর-১, বরিশাল-৬, বান্দরবান পার্বত্য জেলা, পটুয়াখালী-২, চট্টগ্রাম-১৪, পটুয়াখালী-৪, যশোর-১, গোপালগঞ্জ-৩, লালমনিরহাট-৩, খুলনা-১, সুনামগঞ্জ-২, জামালপুর-৪ ও মৌলভীবাজার-২।

দুই লাখের বেশি ভোটারের আসন— ময়মনসিংহ-৩, সাতক্ষীরা-৪, নীলফামারী-৩, নড়াইল-১, ঢাকা-৬, নেত্রকোনা-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, নরসিংদী-২, নরসিংদী-৩, জামালপুর-২, লক্ষ্মীপুর-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, ঢাকা-৮, মেহেরপুর-২, বাগেরহাট-৩, চট্টগ্রাম-৩, খুলনা-৩, পিরোজপুর-৩, যশোর-৬ ও ঝালকাঠী-১।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজি আমদানিতে বিশেষ ঋণসুবিধা: ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে আনার সুযোগ

সংসদ নির্বাচন: জনসংখ্যা-ভোটার সংখ্যার তারতম্য দূর করা যায়নি

আপডেট সময় : ১২:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ঢাকা-৮ এ ভোটার দুই লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন; আর ঢাকা-১৯ আসনে রয়েছেন সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন।

সবেচেয় বেশি ভোটা রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে; আট লাখ চার হাজার ৩৩৩ জন। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে গাজীপুর-৪ আসনে ভোটার এখন তিন লাখ ৩০ হাজার ৯৭৭ জন।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য আসনভিত্তিক ভোটার সংখ্যা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাঁচ লাখের কম ভোটার রয়েছে— এমন আসন রয়েছে ২৩৭টি। এর চেয়ে বেশি ভোটার বাকি ৬৩টি আসনে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ভোটার সংখ্যার সমতা আনার চেষ্টা হয়েছিল। সীমানা নির্ধারণে তা করতে গিয়ে ভোটার সংখ্যার জাতীয় গড় ধরা হয় চার লাখ ২০ হাজার ৫০০ জনের মতো।

জেলার ভেতরের আসনগুলোয় ভোটার তারতম্য ৩০% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, জেলায় ২ আসন অপরিবর্তিত রাখা, তিন পার্বত্য জেলার তিন আসন অক্ষুন্ন রাখাসহ ১২টি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এবার সীমানা নির্ধারণে বিশেষায়িত কমিটিও করা হয়। সময় স্বল্পতার মধ্যে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে কিছু আসনে এবারও জনসংখ্যা-ভোটার সংখ্যার তারতম্য দূর করা যায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোটার সংখ্যার তারতম্য—

>> ২ থেকে ৩ লাখ ভোটার রয়েছে, এমন নির্বাচনি এলাকা ২০টি

>> ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ ভোটার রয়েছে, এমন নির্বাচনি আসন রয়েছে ১০৩টি

>> ৪ থেকে ৫ লাখ ভোটারের আসন রয়েছে ১১৪টি

>>৫ লাখ থেকে ৬ লাখ ভোটার রয়েছে ৫২টি আসনে

>> ৬ থেকে ৭ লাখ ভোটারের আসন সংখ্যা ৭টি

>> ৭ থেকে ৮ লাখ ভোটার রয়েছে তিনটি আসনে; ঢাকা-১৯, গাজীপুর-১ ও নোয়াখালী-৪

>> ৮ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে কেবল গাজীপুর-২ আসনে।

ক্যাপশন: যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি করপোরেশন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম। ফাইল ছবি।

সীমানা নির্ধারণে বিশেষায়িত কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৩০০ আসনের খসড়া প্রকাশকালে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আমরা ৬৪ জেলার গড় ভোটার নির্ধারণ করেছি ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০। এটা ধরে একটি আসন বাড়ালে তা গাজীপুরে হবে। এ গড়ের কম বাগেরহাটে একটি আসন কমালে সমতা চলে আসে।”

৩০ জুলাই খসড়া প্রকাশ ও অগাস্টে দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি করে ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেট হয় ৩০০ আসনের। কিন্তু বাগেরহাট ও গাজীপুরে আসন সংখ্যায় হেরফের হলেও তফসিল ঘোষণার আগে ১১ ডিসেম্বর আবার পুরনো সীমানায় গেজেট করা হয়। এরপর মনোনয়নপত্র জমার আগে ২৬ ডিসেম্বর পাবনা-১ ও ২ এবং ফরিদপুর-২ ও ৪ আসনের সীমানায় গেজেট সংশোধন হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যায়ও পরিবর্তন আসে।

জানতে চাইলে রোববার নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, “আমরা একটা বিশেষায়িত কমিটির কথা বলেছিলাম; কতটা বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাও অবগত নই। ভোটার সংখ্যার কাছাকাছি সমতায় আনতে সিটি করপোরেশন, বড় জেলা, ছোট জেলা নিয়ে ক্যাটাগরি করা; পপুলেশন কোটা ধরা— এসব বিষয় এবার আসেনি, তাতে মেজর কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং পার্থক্যটা রয়ে গেছে।”

এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আব্দুল আলীম বলেন, “সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন সীমানা আইন প্রণয়ন ও এক্সারসাইজ না হওয়ায় ভোটার তারতম্য ‘অনেকটাই’ রয়েই গেছে কিছু আসনে। সময় স্বল্পতার কারণে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

“সীমানা নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এখন কিছু করার নেই। যতটুকু হয়েছে, তা দিয়ে ফেয়ার নির্বাচন হোক। আমাদের সুপারিশের চর্চা হয়নি, মানে ইন্টারন্যাশনাল গাইডলাইনেরও চর্চা হয়নি। কিন্তু পরের নির্বাচনে যেন একই রকম ঘটনা না ঘটে; অর্থাৎ সংস্কার কমিশন যে আইনের খসড়া দিয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই আগামী নির্বাচনে।”

আব্দুল আলীম জানান, ভোটার অনুপাতে নির্বাচনী ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ করায় এবার ইসির মনিটরিং জোরদার করা দরকার। নির্বাচনে ব্যয়টা মনিটরিং করা হয় না, নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে ফোকাস করা দরকার।

এবার নির্বাচনে পৌনে ১৩ কোটি ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় সাড়ে ছয় কোটির মতো; আর নারী আছেন প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ। ৩০০ আসনের মধ্যে ৭৩টিতে নারী ভোটার বেশি রয়েছেন।

নারী ভোটার ও পুরুষ ভোটারের ব্যবধান কমেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দেশের মোট ভোটার সংখ্যায় নারী ভোটার ও পুরুষ ভোটারের ব্যবধান আগে বেশি ছিল; ইসির উদ্যোগে এ গ্যাপ এবার কিছুটা হলেও কমেছে। কেন নারী ভোটার কম, নির্বাচন শেষে ভোটার তালিকার একটা অডিট করে তা বের করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

ছয় লাখের বেশি ভোটারের আসনগুলো হলো— ময়মনসিংহ-৪, সিলেট-১, কুমিল্লা-৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ঢাকা-১৮, যশোর-৩ ও কুড়িগ্রাম-২।

পাঁচ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে— নারায়ণগঞ্জ-৩, জামালপুর-৫, ময়মনসিংহ-২, বগুড়া-৫, কুড়িগ্রাম-১, রাজবাড়ী-২, দিনাজপুর-৬, কিশোরগঞ্জ-১, চট্টগ্রাম-৮, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ-৪, চাঁদপুর-৩, কক্সবাজার-৩, মুন্সীগঞ্জ-১, ঢাকা-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, কক্সবাজার-১, জামালপুর-৩, বগুড়া-৭, কুমিল্লা-১০, সাতক্ষীরা-২, কিশোরগঞ্জ-২, পাবনা-৫, সুনামগঞ্জ-৫, গাজীপুর-৩, চাঁদপুর-৫, বরগুনা-১, সিলেট-৪, নোয়াখালী-৩, চুয়াডাঙ্গা-১, ঠাকুরগাঁও-১, ফরিদপুর-১, রংপুর-৪, মুন্সীগঞ্জ-৩, রাঙ্গামাটি, সিলেট-৬, রংপুর-৩, ফেনী-৩, ঝিনাইদহ-২, গাইবান্ধা-৩, চট্টগ্রাম-১৫, পটুয়াখালী-১, নোয়াখালী-৫, নেত্রকোনা-২, সাতক্ষীরা-৩, ভোলা-৪, চট্টগ্রাম-৫, সুনামগঞ্জ-১, বরিশাল-৫, চাঁদপুর-২, কুমিল্লা-৩ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে।

চার লাখের বেশি ভোটারের আসন হলো— ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, সাতক্ষীরা-১, ফরিদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১১, নরসিংদী-৫, লক্ষ্মীপুর-২, চট্টগ্রাম-১০, চুয়াডাঙ্গা-২, চট্টগ্রাম-২, মৌলভীবাজার-৪, পাবনা-৩, মৌলভীবাজার-৩, সিরাজগঞ্জ-৬, নারায়ণগঞ্জ-৫, যশোর-২, ময়মনসিংহ-১, ঢাকা-৭, কুমিল্লা-৯, কুষ্টিয়া-২, দিনাজপুর-৫, নরসিংদী-১, কুমিল্লা-৫, সিরাজগঞ্জ-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, নওগাঁ-১, মানিকগঞ্জ-২, সিরাজগঞ্জ-২, ঢাকা-৯, রংপুর-৫, রাজশাহী-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, গাইবান্ধা-৪, টাঙ্গাইল-৬, হবিগঞ্জ-১, জয়পুরহাট-১, পাবনা-১, পঞ্চগড়-১, টাঙ্গাইল-৫, মানিকগঞ্জ-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, নীলফামারী-১, যশোর-৪, নেত্রকোনা-১, ঢাকা-১৪, বগুড়া-৬, নোয়াখালী-১, নীলফামারী-৪, শেরপুর-১, কিশোরগঞ্জ-৩, চট্টগ্রাম-৪, নাটোর-৪, লক্ষ্মীপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, কুষ্টিয়া-৩, নওগাঁ-৩, পাবনা-৪, শেরপুর-২, ঢাকা-১১, কুমিল্লা-১, টাঙ্গাইল-১, ফেনী-২, মাদারীপুর-২, লালমনিরহাট-২, ফরিদপুর-৩, জামালপুর-১, ঝিনাইদহ-৩, মাগুরা-১, রাজবাড়ী-১, নরসিংদী-৪, কিশোরগঞ্জ-৬, সিলেট-৫, সিরাজগঞ্জ-৫, কুষ্টিয়া-৪, রাজশাহী-৩, খুলনা-৬, বরিশাল-৪, কুমিল্লা-১১, দিনাজপুর-৪, নেত্রকোনা-৩, ঢাকা-৫, হবিগঞ্জ-৩, ঢাকা-২, গাইবান্ধা-১, টাঙ্গাইল-২, লক্ষ্মীপুর-৪, ময়মনসিংহ-৬, পঞ্চগড়-২, দিনাজপুর-১, মাগুরা-২, চট্টগ্রাম-৯, সিলেট-৩, দিনাজপুর-৩, শরিয়তপুর-২, টাঙ্গাইল-৮, শেরপুর-৩, গাইবান্ধা-২, চট্টগ্রাম-১৬, কুমিল্লা-৪, ময়মনসিংহ-১০, পিরোজপুর-২, নারায়ণগঞ্জ-১, ঢাকা-১৩, কিশোরগঞ্জ-৪, নাটোর-২, ভোলা-১, কুষ্টিয়া-১, লালমনিরহাট-১, ময়মনসিংহ-৭, খুলনা-৫, চাঁদপুর-৪, ঢাকা-১৬ ও মানিকগঞ্জ-৩।

তিন লাখের বেশি ভোটারের আসন— গোপালগঞ্জ-১, ভোলা-২, শরিয়তপুর-১, চট্টগ্রাম-১৩, হবিগঞ্জ-২, পিরোজপুর-১, নড়াইল-২, ঢাকা-১০, ভোলা-৩, ময়মনসিংহ-৫, কক্সবাজার-২, মাদারীপুর-৩, চট্টগ্রাম-১, বরিশাল-২, নীলফামারী-২, ফেনী-১, গাইবান্ধা-৫, সিরাজগঞ্জ-১, ময়মনসিংহ-৯, গোপালগঞ্জ-২, টাঙ্গাইল-৩, রংপুর-২, কুমিল্লা-৮, বাগেরহাট-৪, মুন্সীগঞ্জ-২, খুলনা-৪, ঢাকা-২০, বগুড়া-১, পটুয়াখালী-৩, কক্সবাজার-৪, বাগেরহাট-১, টাঙ্গাইল-৭, নেত্রকোনা-৪, রংপুর-১, কুমিল্লা-২, টাঙ্গাইল-৪, যশোর-৫, পাবনা-২, সুনামগঞ্জ-৩, নওগাঁ-২, সুনামগঞ্জ-৪, দিনাজপুর-২, রাজশাহী-২, সিলেট-২, কুড়িগ্রাম-৩, নাটোর-১, ঝালকাঠী-২, ঠাকুরগাঁও-৩, নারায়ণগঞ্জ-২, নওগাঁ-৫, কুড়িগ্রাম-৪, ঢাকা-৪, ঢাকা-৩, নোয়াখালী-২, বগুড়া-৪, ময়মনসিংহ-১১, রাজশাহী-৬, চাঁদপুর-১, রংপুর-৬, গাজীপুর-৫, কিশোরগঞ্জ-৫, রাজশাহী-৫, চট্টগ্রাম-১২, ঢাকা-১৫, জয়পুরহাট-২, ময়মনসিংহ-৮, নওগাঁ-৬, বগুড়া-২, শরিয়তপুর-৩, ঠাকুরগাঁও-২, চট্টগ্রাম-৬, নোয়াখালী-৬, বগুড়া-৩, বাগেরহাট-২, মৌলভীবাজার-১, বরগুনা-২, খুলনা-২, নওগাঁ-৪, ঢাকা-১৭, ঝিনাইদহ-৪, ঢাকা-১২, বরিশাল-৩, ফরিদপুর-২, গাজীপুর-৪, কুমিল্লা-৭, বরিশাল-১, নাটোর-৩, ঝিনাইদহ-১, মাদারীপুর-১, রাজশাহী-৪, চট্টগ্রাম-৭, মেহেরপুর-১, বরিশাল-৬, বান্দরবান পার্বত্য জেলা, পটুয়াখালী-২, চট্টগ্রাম-১৪, পটুয়াখালী-৪, যশোর-১, গোপালগঞ্জ-৩, লালমনিরহাট-৩, খুলনা-১, সুনামগঞ্জ-২, জামালপুর-৪ ও মৌলভীবাজার-২।

দুই লাখের বেশি ভোটারের আসন— ময়মনসিংহ-৩, সাতক্ষীরা-৪, নীলফামারী-৩, নড়াইল-১, ঢাকা-৬, নেত্রকোনা-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, নরসিংদী-২, নরসিংদী-৩, জামালপুর-২, লক্ষ্মীপুর-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, ঢাকা-৮, মেহেরপুর-২, বাগেরহাট-৩, চট্টগ্রাম-৩, খুলনা-৩, পিরোজপুর-৩, যশোর-৬ ও ঝালকাঠী-১।