ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

পাঠ্যবইয়ে জুলাই বিপ্লব: আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও হাসিনা সরকারের পতনের ইতিহাস জানবে শিক্ষার্থীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে যুক্ত হয়েছে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের পুরো ঘটনাপ্রবাহ এখন থেকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নতুন শিক্ষাবর্ষের বইগুলোতে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ইতিহাস, বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বয়স ও মেধা অনুযায়ী বিষয়গুলো ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে যেমন শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের বীরত্বগাথা স্থান পেয়েছে, তেমনি সেখানে পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে মহান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে মেজর জিয়াউর রহমানের নাম। এই বইটিতে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সমান্তরালে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানকেও তুলে ধরা হয়েছে।

পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অংশে উল্লেখ করা হয়েছে আন্দোলন দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান, হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার বিবরণ। বিশেষ করে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং তাঁর দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত ‘নতুন বাংলাদেশের’ প্রেক্ষাপটও এখানে বিস্তারিতভাবে রয়েছে।

সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইগুলোতে কবিতা ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের এই বিপ্লবের মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে চব্বিশের এই অভ্যুত্থানকে অভিহিত করা হয়েছে ‘নতুন গৌরবগাথা’ হিসেবে। এছাড়া ইংরেজি বইয়ে আন্দোলনের সময় রাজধানীসহ সারা দেশের দেয়ালে দেয়ালে আঁকা সেই আলোচিত গ্রাফিতিগুলোও স্থান পেয়েছে।

শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সংগঠকরা পাঠ্যবইয়ে এই ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এর মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানার এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবে।

বই বিতরণের বিষয়ে এনসিটিবি জানিয়েছে, এরই মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৮৫ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশের সব স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের নতুন পাঠ্যবই হাতে পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা: চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা আপিলেও বাতিল

পাঠ্যবইয়ে জুলাই বিপ্লব: আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও হাসিনা সরকারের পতনের ইতিহাস জানবে শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ১০:১৪:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে যুক্ত হয়েছে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের পুরো ঘটনাপ্রবাহ এখন থেকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নতুন শিক্ষাবর্ষের বইগুলোতে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ইতিহাস, বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বয়স ও মেধা অনুযায়ী বিষয়গুলো ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে যেমন শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের বীরত্বগাথা স্থান পেয়েছে, তেমনি সেখানে পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে মহান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে মেজর জিয়াউর রহমানের নাম। এই বইটিতে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সমান্তরালে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানকেও তুলে ধরা হয়েছে।

পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অংশে উল্লেখ করা হয়েছে আন্দোলন দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান, হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার বিবরণ। বিশেষ করে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং তাঁর দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত ‘নতুন বাংলাদেশের’ প্রেক্ষাপটও এখানে বিস্তারিতভাবে রয়েছে।

সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইগুলোতে কবিতা ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের এই বিপ্লবের মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে চব্বিশের এই অভ্যুত্থানকে অভিহিত করা হয়েছে ‘নতুন গৌরবগাথা’ হিসেবে। এছাড়া ইংরেজি বইয়ে আন্দোলনের সময় রাজধানীসহ সারা দেশের দেয়ালে দেয়ালে আঁকা সেই আলোচিত গ্রাফিতিগুলোও স্থান পেয়েছে।

শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সংগঠকরা পাঠ্যবইয়ে এই ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এর মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানার এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবে।

বই বিতরণের বিষয়ে এনসিটিবি জানিয়েছে, এরই মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৮৫ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশের সব স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের নতুন পাঠ্যবই হাতে পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।