আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১০০ জনের বেশি মানুষকে গুমের পর হত্যার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত ভয়াবহ গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের শুনানি হবে।
শুনানির আইনি প্রক্রিয়া আজকের শুনানিতে প্রথমে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব অভিযোগের বিপরীতে তাদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ পাবেন। উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শোনার পর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেবেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গ্রেপ্তার ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ওই দিন প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। গত ১৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করেন, যা আদালত আমলে নিয়েছেন। প্রসিকিউশনের শুনানিতে উল্লেখ করা হয় যে, তার বিরুদ্ধে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করার পর হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিচারাধীন অন্যান্য অভিযোগ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও বেশ কিছু মামলা বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিগত বছরগুলোতে সংঘটিত গুমের রহস্য উম্মোচনের পথ প্রশস্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 

























