ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

**** দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ড. খালিদের: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উন্নয়নের পূর্বশর্ত **

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

**
**ঢাকা:** ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ। তিনি মন্তব্য করেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের পূর্বশর্ত এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের ওপর নির্ভরশীল।

উপদেষ্টা ড. খালিদ বলেন, বাংলাদেশে নানা ধর্মের মানুষের বসবাস এবং সবাইকে সাথে নিয়েই আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি সতর্ক করে দেন যে সমাজে অস্থিরতা কিংবা অসন্তোষ বজায় থাকলে বৈদেশিক বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সকলের মনকে উদার ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করার অনুরোধ জানান।

**ধর্ম নিয়ে কটূক্তি: জঘন্য অপরাধ ও অসুস্থ মানসিকতা**
ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করাকে ‘জঘন্য কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন, এদেশে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ, বক্রোক্তি কিংবা ব্যঙ্গ করার এক অসুস্থ মানসিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই ধরনের হীন প্রকৃতির মানুষের কর্মকাণ্ড থেকেই ধর্ম অবমাননার অজুহাতে সহিংস ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।

তবে উপদেষ্টা একইসাথে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন যে, ধর্ম অবমাননা যেমন আইনের চোখে অপরাধ, ঠিক তেমনি একজন ব্যক্তিবিশেষের অপরাধে তাকে কিংবা পুরো সম্প্রদায়কে বেআইনিভাবে শাস্তি দেওয়া আরও বেশি গুরুতর অপরাধ।

**আইন হাতে তুলে নেওয়া বর্বরতা**
আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, আমরা অনেকেই আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে চাই না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, এমনকি মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে কিংবা কবর থেকে তুলে এনেও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্বরতারও একটি সীমা থাকা প্রয়োজন।

ড. খালিদ মনে করিয়ে দেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করার জন্য আইন-আদালত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। তিনি অনুরোধ জানান, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প যেন আমাদের সুকুমার বৃত্তিকে বিনষ্ট না করে দেয়, বরং সকলকে মানবিক হতে হবে।

উপসংহারে, তিনি প্রত্যেককে নিজের ধর্মগ্রন্থ গভীরভাবে অধ্যায়ন করার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, আমরা যদি নিজেদের ধর্মের বাণীগুলো অনুধাবন করে আমাদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারি, তবে আমাদের জীবন আলোকিত হবে এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আনসারদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

**** দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ড. খালিদের: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উন্নয়নের পূর্বশর্ত **

আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

**
**ঢাকা:** ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ। তিনি মন্তব্য করেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের পূর্বশর্ত এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের ওপর নির্ভরশীল।

উপদেষ্টা ড. খালিদ বলেন, বাংলাদেশে নানা ধর্মের মানুষের বসবাস এবং সবাইকে সাথে নিয়েই আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি সতর্ক করে দেন যে সমাজে অস্থিরতা কিংবা অসন্তোষ বজায় থাকলে বৈদেশিক বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সকলের মনকে উদার ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করার অনুরোধ জানান।

**ধর্ম নিয়ে কটূক্তি: জঘন্য অপরাধ ও অসুস্থ মানসিকতা**
ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করাকে ‘জঘন্য কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন, এদেশে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ, বক্রোক্তি কিংবা ব্যঙ্গ করার এক অসুস্থ মানসিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই ধরনের হীন প্রকৃতির মানুষের কর্মকাণ্ড থেকেই ধর্ম অবমাননার অজুহাতে সহিংস ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।

তবে উপদেষ্টা একইসাথে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন যে, ধর্ম অবমাননা যেমন আইনের চোখে অপরাধ, ঠিক তেমনি একজন ব্যক্তিবিশেষের অপরাধে তাকে কিংবা পুরো সম্প্রদায়কে বেআইনিভাবে শাস্তি দেওয়া আরও বেশি গুরুতর অপরাধ।

**আইন হাতে তুলে নেওয়া বর্বরতা**
আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, আমরা অনেকেই আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে চাই না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, এমনকি মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে কিংবা কবর থেকে তুলে এনেও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্বরতারও একটি সীমা থাকা প্রয়োজন।

ড. খালিদ মনে করিয়ে দেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করার জন্য আইন-আদালত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। তিনি অনুরোধ জানান, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প যেন আমাদের সুকুমার বৃত্তিকে বিনষ্ট না করে দেয়, বরং সকলকে মানবিক হতে হবে।

উপসংহারে, তিনি প্রত্যেককে নিজের ধর্মগ্রন্থ গভীরভাবে অধ্যায়ন করার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, আমরা যদি নিজেদের ধর্মের বাণীগুলো অনুধাবন করে আমাদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারি, তবে আমাদের জীবন আলোকিত হবে এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে।