ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ঝগড়ার ভিডিও করা যুবককে উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, গ্রেপ্তার ৮

এ ঘটনায় আহত সিলেটের শাহপরাণ থানার ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সিলেট নগরে পারিবারিক ঝগড়ার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করায় এক যুবককে আটকে রাখে স্থানীয়রা। পরে ওই এক যুবককে উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের শাহপরাণ থানার পরগনা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাইফুল ইসলাম।

এ ঘটনায় আলাদা দুটি মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারদের নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

আহত শাহপরাণ থানার ওসি মনির হোসেনসহ দুই পুলিশ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

একটি মামলায় ওই এলাকার মচ্ছবির আলী বাদী হয়ে ফয়সল কাদিরসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করেছেন।

পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অপর একটি মামলায় শাহপারাণ থানার এসআই স্বাধীন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “পুলিশের ওপর হামলা মামলায় পাঁচজন এবং মচ্ছবির আলীর মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আসামিদের নাম পরিচয় পরে জানানো হবে।”

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পরগনা বাজার এলাকায় পারিবারিক বিরোধের ঘটনার একটি ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন ফয়সল কাদের নামের এক যুবক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবককে আটকে রাখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধারে গেলে তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে শাহপরাণ থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

মোবাইলে ধারণ করা ঝগড়ার ভিডিওটি ফয়সলকে স্থানীয় কয়েকজন মুছে ফেলতে বলেন। কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ফয়সলকে একটি দোকানে আটকে রাখেন।

মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে প্রথমে টহল পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে ওসি মনির হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে গিয়ে ফয়সলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে।

এতে ওসি মনির হোসেনসহ আরও দুই কনস্টেবল আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান মহানগর পুলিশের এ কর্মকর্তা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতকানিয়ায় পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান, জব্দকৃত এসকেভেটর অকেজো

ঝগড়ার ভিডিও করা যুবককে উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, গ্রেপ্তার ৮

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

এ ঘটনায় আহত সিলেটের শাহপরাণ থানার ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সিলেট নগরে পারিবারিক ঝগড়ার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করায় এক যুবককে আটকে রাখে স্থানীয়রা। পরে ওই এক যুবককে উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের শাহপরাণ থানার পরগনা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাইফুল ইসলাম।

এ ঘটনায় আলাদা দুটি মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারদের নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

আহত শাহপরাণ থানার ওসি মনির হোসেনসহ দুই পুলিশ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

একটি মামলায় ওই এলাকার মচ্ছবির আলী বাদী হয়ে ফয়সল কাদিরসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করেছেন।

পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অপর একটি মামলায় শাহপারাণ থানার এসআই স্বাধীন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “পুলিশের ওপর হামলা মামলায় পাঁচজন এবং মচ্ছবির আলীর মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আসামিদের নাম পরিচয় পরে জানানো হবে।”

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পরগনা বাজার এলাকায় পারিবারিক বিরোধের ঘটনার একটি ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন ফয়সল কাদের নামের এক যুবক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবককে আটকে রাখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধারে গেলে তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে শাহপরাণ থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

মোবাইলে ধারণ করা ঝগড়ার ভিডিওটি ফয়সলকে স্থানীয় কয়েকজন মুছে ফেলতে বলেন। কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ফয়সলকে একটি দোকানে আটকে রাখেন।

মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে প্রথমে টহল পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে ওসি মনির হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে গিয়ে ফয়সলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে।

এতে ওসি মনির হোসেনসহ আরও দুই কনস্টেবল আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান মহানগর পুলিশের এ কর্মকর্তা।