ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩১ বাংলাদেশিকে হ্যান্ডকাফ ও শেকল পরিয়ে ফেরত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। এরপর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে এই কর্মীদের পরিবহন সহায়তাসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়।

ফেরত আসা এই কর্মীদের মধ্যে অধিকাংশই নোয়াখালীর বাসিন্দা। এছাড়া সিলেট, ফেনী, শরিয়তপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার কর্মী রয়েছেন।

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে হাতে হ্যান্ডকাফ ও শরীরে শেকল পরিয়ে দেশে আনা হয়। ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের শেকলমুক্ত করা হয়। চলতি বছরে এর আগেও ২২৬ জন বাংলাদেশিকে একইভাবে হ্যান্ডকাফ ও শেকল পরিয়ে ফেরত পাঠিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, এই ৩১ জনের মধ্যে অন্তত সাতজন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ বুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে প্রথমে ব্রাজিল গিয়েছিলেন। এরপর সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে তারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। সেখানে বসবাসের আবেদন করলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন। শরিফুল হাসান এই দীর্ঘ সময় হাতকড়া ও শেকল পরিয়ে রাখার ঘটনাকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, যাদের কাজের নামে ব্রাজিলে পাঠানো হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই ব্রাজিল থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এজন্য একেকজন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করলেও ফিরছেন শূন্য হাতে। তিনি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এজেন্সিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার এবং নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় একাধিক দফায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের ২৮ নভেম্বর একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৩৯ জন এবং ৮ জুন একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪২ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়। মার্কিন আইন অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে দেশে ফেরত পাঠানো যায়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩১ বাংলাদেশিকে হ্যান্ডকাফ ও শেকল পরিয়ে ফেরত

আপডেট সময় : ০৩:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। এরপর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে এই কর্মীদের পরিবহন সহায়তাসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়।

ফেরত আসা এই কর্মীদের মধ্যে অধিকাংশই নোয়াখালীর বাসিন্দা। এছাড়া সিলেট, ফেনী, শরিয়তপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার কর্মী রয়েছেন।

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে হাতে হ্যান্ডকাফ ও শরীরে শেকল পরিয়ে দেশে আনা হয়। ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের শেকলমুক্ত করা হয়। চলতি বছরে এর আগেও ২২৬ জন বাংলাদেশিকে একইভাবে হ্যান্ডকাফ ও শেকল পরিয়ে ফেরত পাঠিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, এই ৩১ জনের মধ্যে অন্তত সাতজন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ বুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে প্রথমে ব্রাজিল গিয়েছিলেন। এরপর সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে তারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। সেখানে বসবাসের আবেদন করলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন। শরিফুল হাসান এই দীর্ঘ সময় হাতকড়া ও শেকল পরিয়ে রাখার ঘটনাকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, যাদের কাজের নামে ব্রাজিলে পাঠানো হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই ব্রাজিল থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এজন্য একেকজন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করলেও ফিরছেন শূন্য হাতে। তিনি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এজেন্সিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার এবং নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় একাধিক দফায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের ২৮ নভেম্বর একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৩৯ জন এবং ৮ জুন একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪২ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়। মার্কিন আইন অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে দেশে ফেরত পাঠানো যায়।