ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, সৌদি আরবে বিভিন্ন হজ এজেন্সির অব্যয়িত মোট ৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এই অর্থ ৯৯০টি হজ এজেন্সির অনুকূলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। তিনি জানান, ফেরত আসা টাকার পরিমাণ একটি এজেন্সির জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা থেকে সর্বনিম্ন দুই টাকা পর্যন্ত।
সোমবার সচিবালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা এই তথ্য জানান। এজেন্সিগুলো বিভিন্ন সময়ে হজের খরচের জন্য সৌদি আরবে এই অর্থ পাঠিয়েছিল, কিন্তু তা অব্যয়িত থেকে যায়।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাসার নুসুক প্ল্যাটফর্মের আইবিএএন (ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার)-এ মোট ৯৯০টি এজেন্সির অব্যয়িত অর্থ জমা ছিল এবং সব এজেন্সির টাকাই ফেরত পাওয়া গেছে। ফেরত আসা অর্থের মোট পরিমাণ হলো এক কোটি ২৫ লাখ ৩৮ হাজার ৪৬৮ সৌদি রিয়াল ও ৫৭ সৌদি হালালা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকার সমান। ইতিমধ্যেই এই টাকা বাংলাদেশ হজ অফিসের মাসার নুসুক প্ল্যাটফর্মের আইবিএএন থেকে বাংলাদেশ হজ অফিসের হজ সংক্রান্ত সৌদি ফ্রান্সি ব্যাংকে পরিচালিত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৯৯০টি হজ এজেন্সির মধ্যে তিনটি এজেন্সির হিসাবে কোনো অব্যয়িত অর্থ জমা ছিল না। ৮৩১টি এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য থাকায় তাদের টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হবে। তবে বাকি ১৫৬টি এজেন্সির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই তথ্যগুলো পাওয়া গেলে তাদের টাকাও ফেরত দেওয়া হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য দাপ্তরিক সব প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে জমা পড়ে থাকা অব্যয়িত অর্থ ফেরত আনা এবং তা সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগের প্রমাণ দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই মিলে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি ২০২৫ সালের হজ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের দেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি হজযাত্রী বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করে থাকেন। সরকারি-বেসরকারি উভয় মাধ্যমে হজযাত্রীদের সৌদি আরবের খরচের টাকা সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে তাদের মাসার নুসুক প্ল্যাটফর্মের আইবিএএন হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে জমা দেওয়া হয়ে থাকে।
বর্তমানে মাসার নুসুক প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত বাংলাদেশি হজ এজেন্সির সংখ্যা এক হাজার ৩৩৯টি। তিনি জানান, গত ৭/৮ বছরে এসব এজেন্সি হজের সৌদি পর্বের খরচের জন্য যে টাকা পাঠিয়েছিল, তার কিছু অংশ অব্যয়িত বা উদ্বৃত্ত ছিল। এই উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য হজ এজেন্সিগুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানায়।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের কাছে জমে থাকা এই অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করা হয়। বিভিন্ন সময়ে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও এই বিষয়টি আলোচনায় আসে। তিনি নিজে এ বছর হজ শেষে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টারকে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠানোর অনুরোধ জানান। এমনকি খুদে বার্তার মাধ্যমেও তিনি মন্ত্রীকে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করেছিলেন। এরই ফলস্বরূপ সৌদি সরকার টাকা ফেরত দিয়েছে।
এই অর্থ এজেন্সিগুলো হজযাত্রীদের ফেরত দেবে কি না জানতে চাইলে ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ হোসেন বলেন, এজেন্সিগুলোকে কিছু টাকা বেশিও পাঠাতে হয়। এটি হজযাত্রীদের কাছ থেকে নিয়ে পাঠানো টাকা এমন নয়, বরং এটা তাদের ব্যবসার অংশ। টাকার যাতে কমতি না পড়ে, সেই কারণে তারা কিছু বাড়তি অর্থ পাঠিয়ে থাকে।
রিপোর্টারের নাম 

























