ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

এডওয়ার্ড সাঈদ: ফিলিস্তিনি অধিকার এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক আপসহীন কণ্ঠস্বর

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী তাত্ত্বিক, সাহিত্য-সমালোচক এবং জনবুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ। তিনি ইহুদি বংশোদ্ভূত নন, বরং জেরুজালেমের এক ফিলিস্তিনি আরব খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার ব্যক্তিগত পরিচয় ছাপিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের, বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের এক অবিসংবাদিত কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। সাঈদ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিসত্তার বিরুদ্ধে নন, বরং ইহুদিবাদ ও ইহুদি আধিপত্যবাদের নামে পরিচালিত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে তার জীবনব্যাপী দার্শনিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন। তার কালজয়ী গ্রন্থ ‘ওরিয়েন্টালিজম’, ‘দ্য কোয়েশ্চান অব প্যালেস্টাইন’ এবং ‘কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম’ পশ্চিমা আধিপত্যবাদ ও ইসরাইলি দখলদারিত্বের মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত ভিত্তি উন্মোচন করেছে। সাঈদের তাত্ত্বিক ধারণার আলোকে ইসরাইলের উপনিবেশবাদী নীতির বিরুদ্ধে দার্শনিক জনমত তৈরি এবং একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বিশ্ব নির্মাণ আজ সময়ের অপরিহার্য দাবি।

সাঈদের দার্শনিক চিন্তার সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ হলো তার ‘ওরিয়েন্টালিজম’ বা প্রাচ্যতত্ত্বের ধারণা, যা তিনি ১৯৭৮ সালে প্রকাশ করেন। মিশেল ফুকোর ক্ষমতা ও জ্ঞানতত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সাঈদ দেখিয়েছেন, কীভাবে পশ্চিমা বিশ্ব প্রাচ্যকে তাদের শাসন ও শোষণের যৌক্তিকতা প্রমাণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। পশ্চিমা জ্ঞানচর্চায় প্রাচ্যকে প্রায়শই অযৌক্তিক, বর্বর, নারীসুলভ এবং পশ্চাৎপদ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যেখানে তারা নিজেদের যৌক্তিক, সভ্য, পুরুষালি এবং প্রগতিশীল হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এই দ্বৈতবাদী বিভাজন কেবল সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি ভয়ংকর অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর তাদের চলমান আধিপত্যবাদের মূল শেকড় এই প্রাচ্যতাত্ত্বিক বয়ানের মধ্যেই নিহিত। ইহুদিবাদ বা জায়নবাদ মূলত ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদেরই একটি উপজাত। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে জায়নবাদী আন্দোলনের সূচনা লগ্নে তারা ফিলিস্তিনকে এমন একটি ভূমি হিসেবে চিত্রিত করেছিল যেখানে কোনো সভ্য মানুষ বাস করে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর ২০ বছরের প্রস্তাব ইরানের: দাবি ট্রাম্পের

এডওয়ার্ড সাঈদ: ফিলিস্তিনি অধিকার এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক আপসহীন কণ্ঠস্বর

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী তাত্ত্বিক, সাহিত্য-সমালোচক এবং জনবুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ। তিনি ইহুদি বংশোদ্ভূত নন, বরং জেরুজালেমের এক ফিলিস্তিনি আরব খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার ব্যক্তিগত পরিচয় ছাপিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের, বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের এক অবিসংবাদিত কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। সাঈদ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিসত্তার বিরুদ্ধে নন, বরং ইহুদিবাদ ও ইহুদি আধিপত্যবাদের নামে পরিচালিত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে তার জীবনব্যাপী দার্শনিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন। তার কালজয়ী গ্রন্থ ‘ওরিয়েন্টালিজম’, ‘দ্য কোয়েশ্চান অব প্যালেস্টাইন’ এবং ‘কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম’ পশ্চিমা আধিপত্যবাদ ও ইসরাইলি দখলদারিত্বের মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত ভিত্তি উন্মোচন করেছে। সাঈদের তাত্ত্বিক ধারণার আলোকে ইসরাইলের উপনিবেশবাদী নীতির বিরুদ্ধে দার্শনিক জনমত তৈরি এবং একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বিশ্ব নির্মাণ আজ সময়ের অপরিহার্য দাবি।

সাঈদের দার্শনিক চিন্তার সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ হলো তার ‘ওরিয়েন্টালিজম’ বা প্রাচ্যতত্ত্বের ধারণা, যা তিনি ১৯৭৮ সালে প্রকাশ করেন। মিশেল ফুকোর ক্ষমতা ও জ্ঞানতত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সাঈদ দেখিয়েছেন, কীভাবে পশ্চিমা বিশ্ব প্রাচ্যকে তাদের শাসন ও শোষণের যৌক্তিকতা প্রমাণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। পশ্চিমা জ্ঞানচর্চায় প্রাচ্যকে প্রায়শই অযৌক্তিক, বর্বর, নারীসুলভ এবং পশ্চাৎপদ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যেখানে তারা নিজেদের যৌক্তিক, সভ্য, পুরুষালি এবং প্রগতিশীল হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এই দ্বৈতবাদী বিভাজন কেবল সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি ভয়ংকর অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর তাদের চলমান আধিপত্যবাদের মূল শেকড় এই প্রাচ্যতাত্ত্বিক বয়ানের মধ্যেই নিহিত। ইহুদিবাদ বা জায়নবাদ মূলত ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদেরই একটি উপজাত। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে জায়নবাদী আন্দোলনের সূচনা লগ্নে তারা ফিলিস্তিনকে এমন একটি ভূমি হিসেবে চিত্রিত করেছিল যেখানে কোনো সভ্য মানুষ বাস করে না।