ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের কঠোর অবস্থান, ট্রাম্পের পিছু হটা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ অবরোধ তুলে নিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়ের মধ্যে ইরান তার দাবি মেনে না নিলে শাস্তিস্বরূপ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। তবে, ইরানও পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত ছিল। তেহরান জানিয়েছিল, যদি তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

এই হুমকি-পাল্টা হুমকির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই ছিল বিশ্ববাসীর নজর। কিন্তু সকলকে অবাক করে দিয়ে ট্রাম্প হঠাৎ করেই পিছু হটার ঘোষণা দেন। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন যে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার সিদ্ধান্ত তিনি পাঁচদিনের জন্য স্থগিত করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পূর্ণাঙ্গ ও সার্বিক সমাধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা ও ঐকমত্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে, ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যে চোরাবালিতে আটকে গেছে, তা থেকে বাঁচতে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে।

গালিবাফ আরও বলেন, ইরান আগ্রাসনকারীদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ ও অনুশোচনামূলক শাস্তি দাবি করে। এই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের কর্মকর্তারা তাদের সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের পাশে দৃঢ়ভাবে থাকবেন। অন্যদিকে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত লড়াই চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। গতকাল ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কর্মকর্তা আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি বলেন, ইরানের অখণ্ডতা রক্ষায় দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গর্বিত, বিজয়ী এবং অবিচল। পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই পথচলা অব্যাহত থাকবে। এই পরিস্থিতিতে, সোমবার মধ্যরাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ইসরাইলের দিকে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে তেল আবিব, উত্তর ইসরাইলের শহর নাজর ও হাইফা শহর আক্রান্ত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্চারি ফেডারেশনে আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে গিয়ে কোষাধ্যক্ষ অপসারিত

ইরানের কঠোর অবস্থান, ট্রাম্পের পিছু হটা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ১১:৩১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ অবরোধ তুলে নিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়ের মধ্যে ইরান তার দাবি মেনে না নিলে শাস্তিস্বরূপ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। তবে, ইরানও পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত ছিল। তেহরান জানিয়েছিল, যদি তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

এই হুমকি-পাল্টা হুমকির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই ছিল বিশ্ববাসীর নজর। কিন্তু সকলকে অবাক করে দিয়ে ট্রাম্প হঠাৎ করেই পিছু হটার ঘোষণা দেন। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন যে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার সিদ্ধান্ত তিনি পাঁচদিনের জন্য স্থগিত করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পূর্ণাঙ্গ ও সার্বিক সমাধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা ও ঐকমত্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে, ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যে চোরাবালিতে আটকে গেছে, তা থেকে বাঁচতে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে।

গালিবাফ আরও বলেন, ইরান আগ্রাসনকারীদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ ও অনুশোচনামূলক শাস্তি দাবি করে। এই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের কর্মকর্তারা তাদের সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের পাশে দৃঢ়ভাবে থাকবেন। অন্যদিকে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত লড়াই চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। গতকাল ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কর্মকর্তা আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি বলেন, ইরানের অখণ্ডতা রক্ষায় দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গর্বিত, বিজয়ী এবং অবিচল। পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই পথচলা অব্যাহত থাকবে। এই পরিস্থিতিতে, সোমবার মধ্যরাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ইসরাইলের দিকে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে তেল আবিব, উত্তর ইসরাইলের শহর নাজর ও হাইফা শহর আক্রান্ত হয়েছে।