ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ১৭ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে আসছে, বৈশ্বিক তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মজুদ থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) বাজারে আসতে চলেছে। সম্প্রতি ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর এই বিপুল পরিমাণ তেল উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জাহাজে মজুদ ছিল।

শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বিশ্ব জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো বলেন, ‘বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি তেল মজুদ রয়েছে।’ অন্যদিকে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্ট ১৯ মার্চের এক মূল্যায়নে সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল বলে উল্লেখ করে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম সরবরাহের সমান।

এশিয়া তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে এবং জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তেল শোধনাগারগুলো, ফলে জ্বালানি রপ্তানিও হ্রাস পাচ্ছে। এই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। গত বছর চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩.৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। চীন ছাড়াও পূর্বে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক ছিল। কেপলারের তথ্যমতে, চীন গত বছর দৈনিক প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে, যা নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক দেশ এই তেল এড়িয়ে চলার সুযোগে সম্ভব হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারত রুশ তেল সংগ্রহ করেছিল। অন্যান্য বড় এশীয় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুদ কম হওয়ায় দেশটি ইরানি তেল কেনার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ এইচআরএসএস-এর

ইরানের ১৭ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে আসছে, বৈশ্বিক তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মজুদ থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) বাজারে আসতে চলেছে। সম্প্রতি ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর এই বিপুল পরিমাণ তেল উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জাহাজে মজুদ ছিল।

শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বিশ্ব জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো বলেন, ‘বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি তেল মজুদ রয়েছে।’ অন্যদিকে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্ট ১৯ মার্চের এক মূল্যায়নে সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল বলে উল্লেখ করে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম সরবরাহের সমান।

এশিয়া তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে এবং জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তেল শোধনাগারগুলো, ফলে জ্বালানি রপ্তানিও হ্রাস পাচ্ছে। এই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। গত বছর চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩.৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। চীন ছাড়াও পূর্বে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক ছিল। কেপলারের তথ্যমতে, চীন গত বছর দৈনিক প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে, যা নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক দেশ এই তেল এড়িয়ে চলার সুযোগে সম্ভব হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারত রুশ তেল সংগ্রহ করেছিল। অন্যান্য বড় এশীয় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুদ কম হওয়ায় দেশটি ইরানি তেল কেনার পদক্ষেপ নিচ্ছে।