ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

সময় ফুরোলেও শেষ হয়নি হাওরের বাঁধ: আগাম বন্যার আশঙ্কায় খালিয়াজুরীর কৃষকরা

নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অনেক স্থানেই মাটি ভরাটসহ আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়ে গেছে। ফলে চৈত্র মাসের সম্ভাব্য আগাম বন্যার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো কৃষক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরে খালিয়াজুরীতে প্রায় ২০ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৪৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। এই বাঁধগুলোর ওপর নির্ভর করছে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল, যার সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দেড় লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবস্থাপনা ও নানা কৌশলের কারণে অনেক স্থানেই কাজ শুরু হয়েছে দেরিতে। ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হয়ে গেলেও বাঁধের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তারা শঙ্কিত। কৃষকদের মতে, চৈত্রের শুরুতে পাহাড়ি ঢল বা নদীতে পানি বাড়লে দুর্বল ও অসম্পূর্ণ বাঁধ দিয়ে ফসল রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। অনেক পিআইসি সদস্য সময়মতো সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করতে গিয়েও হিমশিম খেয়েছেন, যা কাজের গতিকে মন্থর করে দিয়েছে।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি নাদির হোসেন শামীম জানান, হাওর থেকে পানি দেরিতে নামার কারণে প্রকল্প চিহ্নিতকরণ ও কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাটি ভরাটের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অবশিষ্ট কাজ ও বাঁধের ওপর ঘাস লাগানোর প্রক্রিয়া আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করেছেন।

এদিকে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অন্য বছরের তুলনায় এবার কাজের গতি যথেষ্ট ভালো। অধিকাংশ বাঁধের প্রধান কাজগুলো শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করে হাওরের ফসলকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সময় ফুরোলেও শেষ হয়নি হাওরের বাঁধ: আগাম বন্যার আশঙ্কায় খালিয়াজুরীর কৃষকরা

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অনেক স্থানেই মাটি ভরাটসহ আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়ে গেছে। ফলে চৈত্র মাসের সম্ভাব্য আগাম বন্যার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো কৃষক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরে খালিয়াজুরীতে প্রায় ২০ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৪৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। এই বাঁধগুলোর ওপর নির্ভর করছে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল, যার সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দেড় লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবস্থাপনা ও নানা কৌশলের কারণে অনেক স্থানেই কাজ শুরু হয়েছে দেরিতে। ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হয়ে গেলেও বাঁধের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তারা শঙ্কিত। কৃষকদের মতে, চৈত্রের শুরুতে পাহাড়ি ঢল বা নদীতে পানি বাড়লে দুর্বল ও অসম্পূর্ণ বাঁধ দিয়ে ফসল রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। অনেক পিআইসি সদস্য সময়মতো সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করতে গিয়েও হিমশিম খেয়েছেন, যা কাজের গতিকে মন্থর করে দিয়েছে।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি নাদির হোসেন শামীম জানান, হাওর থেকে পানি দেরিতে নামার কারণে প্রকল্প চিহ্নিতকরণ ও কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাটি ভরাটের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অবশিষ্ট কাজ ও বাঁধের ওপর ঘাস লাগানোর প্রক্রিয়া আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করেছেন।

এদিকে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অন্য বছরের তুলনায় এবার কাজের গতি যথেষ্ট ভালো। অধিকাংশ বাঁধের প্রধান কাজগুলো শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করে হাওরের ফসলকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।