খুলনা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক ও বিএনপির সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেছেন, একের পর এক হত্যাকাণ্ডে নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাজনীতিবিদরাও নিরাপদ নন উল্লেখ করে তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কথাও জানান। মঞ্জু প্রশাসনকে সন্ত্রাসীদের দমনে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকাসক্তিতে ছেয়ে গেছে খুলনা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) খুলনা ক্লাবে জেলা বিএনপির আয়োজনে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঞ্জু বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আরও বলেন, “দলের মধ্যে কোনোভাবেই যেন অপরাধীরা জায়গা করে নিতে না পারে। খুলনাকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত শান্তিময় শহরে রূপান্তর করতে হলে বিএনপিকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে দলের ভেতরেই ‘শুদ্ধি অভিযান’ পরিচালনা করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি শফিকুল আলম মনা। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান।
ইফতারপূর্ব আলোচনা পর্বে বক্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা উল্লেখ করেন, রমজান মাসজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ রেখে রোজাদারদের কষ্ট লাঘবে সরকার প্রশংসিত হয়েছে। দেড় দশকের পুরনো অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ায় এবার জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলেও দাবি করা হয়। বক্তারা জানান, শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন এবং সরকার পর্যায়ক্রমে নির্বাচনী ইশতেহারের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। তবে, খুলনা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি নেতারা।
খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রেজাউল করিম, উপ-উপাচার্য হারুন অর রশীদ খান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর ও সদস্য সচিব জি এম মওলা বক্স, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মুরাদ, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইমরান হোসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, খুলনা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ্, খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক শেখ দিদারুল আলম, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিল্টন এবং বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 























