পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ওপর সউদী আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর গভীর আস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, নবগঠিত সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার জন্য উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও বন্ধু দেশগুলোর মধ্যে এক প্রবল আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত রোববার ও সোমবার দুদিনব্যাপী তিনি সউদী আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বিদেশি কূটনীতিকরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষ করে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। অর্থাৎ আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে সবার ওপরে থাকবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ। আমরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন থাকব। পাশাপাশি কোনো বিদেশি রাষ্ট্র যেন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। ঠিক তেমনিভাবে আমরাও অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করব না।”
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, জাতীয় মর্যাদা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিটি দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। আমরা আমাদের সব অমীমাংসিত ইস্যুগুলো পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্মানজনকভাবে সমাধান করতে পারব বলে বিশ্বাস করি। আগামী দিনে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে।”
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং ইইউ প্রতিনিধি মাইকেল মিলারও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংস্কার কর্মসূচিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত সৌজন্যমূলক বৈঠক হলেও অদূর ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট বিষয় ও প্রকল্প নিয়ে দেশগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।
রিপোর্টারের নাম 


















