ঢাকা ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

মেক্সিকোর দুর্ধর্ষ মাদকসম্রাট ‘এল মেনচো’ নিহত, কার্টেলের তাণ্ডবে রণক্ষেত্র মেক্সিকো

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মেক্সিকোর সবচেয়ে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী এবং শক্তিশালী ‘জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (সিজেএনজি)-এর প্রধান নেমেসিও ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস ওরফে ‘এল মেনচো’ নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার পর চালানো এই অভিযানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সহায়তা করেছে। তবে কার্টেল প্রধানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেক্সিকোর অন্তত আটটি রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রোববার জালিস্কো রাজ্যের তাপালপা এলাকায় বিশেষ বাহিনী, বিমান বাহিনী এবং ন্যাশনাল গার্ডের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে এল মেনচো গুরুতর আহত হন এবং রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এই সশস্ত্র সংঘাতের সময় কার্টেলের চার সদস্য নিহত এবং সেনাবাহিনীর তিন সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ সাঁজোয়া যান ও রকেট লঞ্চারসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

৫৯ বছর বয়সি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এল মেনচো ছিলেন বিশ্বের অন্যতম দুর্ধর্ষ মাদকসম্রাট। তার নেতৃত্বাধীন সিজেএনজি যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন, মেথামফেটামিন ও প্রাণঘাতী ফেন্টানাইল পাচারের জন্য দায়ী। মার্কিন প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) মতে, সিনালোয়া কার্টেলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এল মেনচোর সংগঠনটি মাদক সাম্রাজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল।

এদিকে, নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে সিজেএনজি সদস্যরা মেক্সিকো জুড়ে তাণ্ডব শুরু করেছে। আটটি রাজ্যে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর গুয়াদালাজারাসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। জালিস্কো উপকূলে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভাল্লার্তায় হাজার হাজার পর্যটক রিসোর্টে আটকা পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জালিস্কোর গভর্নর পাবলো লেমুস নাভারো ‘কোড রেড’ সতর্কতা জারি করে জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছেন।

সহিংসতার জেরে মেক্সিকোর আকাশপথেও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, আমেরিকান এয়ারলাইন্স এবং এয়ার কানাডাসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের জন্য মেক্সিকোর বেশ কিছু এলাকায় জরুরি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।

মেক্সিকোতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এল মেনচোকে ‘সবচেয়ে নিষ্ঠুর মাদকসম্রাট’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার মৃত্যু মাদকবিরোধী লড়াইয়ে বড় সাফল্য হলেও কার্টেলের প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এল মেনচোর মৃত্যু মেক্সিকোর অপরাধ জগতে এক বড় শূন্যতা তৈরি করবে, যা নতুন করে ক্ষমতার লড়াই ও রক্তক্ষয় বাড়িয়ে দিতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্চারি ফেডারেশনে আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে গিয়ে কোষাধ্যক্ষ অপসারিত

মেক্সিকোর দুর্ধর্ষ মাদকসম্রাট ‘এল মেনচো’ নিহত, কার্টেলের তাণ্ডবে রণক্ষেত্র মেক্সিকো

আপডেট সময় : ১০:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মেক্সিকোর সবচেয়ে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী এবং শক্তিশালী ‘জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (সিজেএনজি)-এর প্রধান নেমেসিও ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস ওরফে ‘এল মেনচো’ নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার পর চালানো এই অভিযানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সহায়তা করেছে। তবে কার্টেল প্রধানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেক্সিকোর অন্তত আটটি রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রোববার জালিস্কো রাজ্যের তাপালপা এলাকায় বিশেষ বাহিনী, বিমান বাহিনী এবং ন্যাশনাল গার্ডের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে এল মেনচো গুরুতর আহত হন এবং রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এই সশস্ত্র সংঘাতের সময় কার্টেলের চার সদস্য নিহত এবং সেনাবাহিনীর তিন সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ সাঁজোয়া যান ও রকেট লঞ্চারসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

৫৯ বছর বয়সি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এল মেনচো ছিলেন বিশ্বের অন্যতম দুর্ধর্ষ মাদকসম্রাট। তার নেতৃত্বাধীন সিজেএনজি যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন, মেথামফেটামিন ও প্রাণঘাতী ফেন্টানাইল পাচারের জন্য দায়ী। মার্কিন প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) মতে, সিনালোয়া কার্টেলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এল মেনচোর সংগঠনটি মাদক সাম্রাজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল।

এদিকে, নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে সিজেএনজি সদস্যরা মেক্সিকো জুড়ে তাণ্ডব শুরু করেছে। আটটি রাজ্যে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর গুয়াদালাজারাসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। জালিস্কো উপকূলে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভাল্লার্তায় হাজার হাজার পর্যটক রিসোর্টে আটকা পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জালিস্কোর গভর্নর পাবলো লেমুস নাভারো ‘কোড রেড’ সতর্কতা জারি করে জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছেন।

সহিংসতার জেরে মেক্সিকোর আকাশপথেও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, আমেরিকান এয়ারলাইন্স এবং এয়ার কানাডাসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের জন্য মেক্সিকোর বেশ কিছু এলাকায় জরুরি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।

মেক্সিকোতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এল মেনচোকে ‘সবচেয়ে নিষ্ঠুর মাদকসম্রাট’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার মৃত্যু মাদকবিরোধী লড়াইয়ে বড় সাফল্য হলেও কার্টেলের প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এল মেনচোর মৃত্যু মেক্সিকোর অপরাধ জগতে এক বড় শূন্যতা তৈরি করবে, যা নতুন করে ক্ষমতার লড়াই ও রক্তক্ষয় বাড়িয়ে দিতে পারে।