ঢাকা ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ভারতজুড়ে কাশ্মীরি বিক্রেতাদের দুঃসময়: হামলার মুখে জীবিকা ও নিরাপত্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

একসময় শীতকালে উত্তর ভারতের শহরগুলোতে কাশ্মীরি শাল ও হস্তশিল্প বিক্রেতাদের আনাগোনা ছিল এক পরিচিত দৃশ্য। জীবিকার তাগিদে আসা হাজার হাজার কাশ্মীরি ব্যবসায়ীর পদচারণায় মুখরিত থাকত জনপথ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীরিদের ওপর দেশজুড়ে বেড়ে চলা বিদ্বেষমূলক হামলা সেই চিরাচরিত ছবিটাকেই আমূল পাল্টে দিয়েছে। এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা, যাদের মধ্যে অন্যতম হরিয়ানা রাজ্যের হিসার শহরে শাল ফেরি করা ২৮ বছর বয়সী আয়াজ আহমদ।

আয়াজ এখন শুধু ক্রেতাদের সঙ্গে নয়, বরং নিজের মোবাইল ফোনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অন্য কাশ্মীরি বিক্রেতাদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এই গ্রুপে তিনি সহকর্মীদের নির্দেশনা দেন কোন কোন রাস্তা এড়িয়ে চলতে হবে, কোথায় ঝুঁকি কম। পাশাপাশি অন্য সদস্যরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদান করেন।

ভারত অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আসা হাজার হাজার ব্যবসায়ী প্রতি বছরই শীতের মৌসুমে ভারতের বিভিন্ন শহরে পাড়ি জমান। শাল, কার্পেট ও অন্যান্য হাতে তৈরি জিনিসের চাহিদা এই সময়ে বাড়ে, আর কাশ্মীরিরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রুজি-রোজগার করেন। কিন্তু দেশজুড়ে কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও হামলার বাড়বাড়ন্ত তাদের এই ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। নিরাপত্তার অভাবে এখন আর শীতকালে ভারতের জনবহুল শহরগুলোতে কাশ্মীরি বিক্রেতাদের স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি চোখে পড়ে না।

আক্রমণের ভয়ে আয়াজের মতো অনেকেই এখন নিজেদের গতিপথ পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিচিত পথগুলো এড়িয়ে নতুন রুট ধরে তারা পণ্য বিক্রি করছেন, যা তাদের ব্যবসাকেও ব্যাহত করছে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি তাদের জন্য একটি লাইফলাইন হয়ে উঠেছে, যেখানে তারা একে অপরের ভরসা হয়ে উঠেছেন। কাশ্মীরি বিক্রেতাদের জীবনে নেমে এসেছে এক নতুন অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। তারা এখন শুধু জীবিকার সংগ্রামই করছেন না, বরং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক কঠিন যুদ্ধেও নেমেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্চারি ফেডারেশনে আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে গিয়ে কোষাধ্যক্ষ অপসারিত

ভারতজুড়ে কাশ্মীরি বিক্রেতাদের দুঃসময়: হামলার মুখে জীবিকা ও নিরাপত্তা

আপডেট সময় : ১০:৫২:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একসময় শীতকালে উত্তর ভারতের শহরগুলোতে কাশ্মীরি শাল ও হস্তশিল্প বিক্রেতাদের আনাগোনা ছিল এক পরিচিত দৃশ্য। জীবিকার তাগিদে আসা হাজার হাজার কাশ্মীরি ব্যবসায়ীর পদচারণায় মুখরিত থাকত জনপথ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীরিদের ওপর দেশজুড়ে বেড়ে চলা বিদ্বেষমূলক হামলা সেই চিরাচরিত ছবিটাকেই আমূল পাল্টে দিয়েছে। এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা, যাদের মধ্যে অন্যতম হরিয়ানা রাজ্যের হিসার শহরে শাল ফেরি করা ২৮ বছর বয়সী আয়াজ আহমদ।

আয়াজ এখন শুধু ক্রেতাদের সঙ্গে নয়, বরং নিজের মোবাইল ফোনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অন্য কাশ্মীরি বিক্রেতাদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এই গ্রুপে তিনি সহকর্মীদের নির্দেশনা দেন কোন কোন রাস্তা এড়িয়ে চলতে হবে, কোথায় ঝুঁকি কম। পাশাপাশি অন্য সদস্যরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদান করেন।

ভারত অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আসা হাজার হাজার ব্যবসায়ী প্রতি বছরই শীতের মৌসুমে ভারতের বিভিন্ন শহরে পাড়ি জমান। শাল, কার্পেট ও অন্যান্য হাতে তৈরি জিনিসের চাহিদা এই সময়ে বাড়ে, আর কাশ্মীরিরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রুজি-রোজগার করেন। কিন্তু দেশজুড়ে কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও হামলার বাড়বাড়ন্ত তাদের এই ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। নিরাপত্তার অভাবে এখন আর শীতকালে ভারতের জনবহুল শহরগুলোতে কাশ্মীরি বিক্রেতাদের স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি চোখে পড়ে না।

আক্রমণের ভয়ে আয়াজের মতো অনেকেই এখন নিজেদের গতিপথ পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিচিত পথগুলো এড়িয়ে নতুন রুট ধরে তারা পণ্য বিক্রি করছেন, যা তাদের ব্যবসাকেও ব্যাহত করছে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি তাদের জন্য একটি লাইফলাইন হয়ে উঠেছে, যেখানে তারা একে অপরের ভরসা হয়ে উঠেছেন। কাশ্মীরি বিক্রেতাদের জীবনে নেমে এসেছে এক নতুন অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। তারা এখন শুধু জীবিকার সংগ্রামই করছেন না, বরং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক কঠিন যুদ্ধেও নেমেছেন।