দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে এক আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার মুখে পড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মিত্র দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট শরিকরা শুরুতে দ্বিমত পোষণ করলেও শেষ পর্যন্ত উভয় শপথই গ্রহণ করেছেন।
গত মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিএনপির বিজয়ীরা শপথ নেন। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় সংস্কার প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এই পরিস্থিতিকে ‘মই দিয়ে চাঁদে ওঠার চেষ্টা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, বিদ্যমান সংবিধানে এমন কোনো পরিষদের বিধান নেই এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীদের পরামর্শ ছাড়া তড়িঘড়ি করে গঠিত এই আদেশের আইনি ভিত্তি সংসদ গঠনের ৩০ দিন পর বাতিল হয়ে যেতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্টের কিছু আইনজীবী মনে করছেন, সংসদ অধিবেশন শুরু হলে এই অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাস করার মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, তারা জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার সম্পন্ন করতে আন্তরিক এবং এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশন শুরুর অপেক্ষায় আছেন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, শপথ ফর্মে আইনি অস্পষ্টতা এবং সংবিধানে এই পরিষদের অন্তর্ভুক্তি না থাকায় তারা শপথ নেননি। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় প্রতিপালনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুঞ্জন রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন করা হতে পারে, যা সরকার ও সংসদের মধ্যে সমন্বয় করবে।
এদিকে, বিএনপির এই অবস্থানকে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতি ‘অপমান’ এবং গণভোটের রায়ের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তারা মনে করছেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে এই শপথ এড়িয়ে যাওয়া সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে এক ধরনের লুকোচুরি।
বর্তমানে সংসদে ২০৯টি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রয়েছে বিএনপি। ফলে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো সংশোধনী আনার ক্ষমতা এখন দলটির হাতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কারের পুরো বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে বিএনপির সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। সংসদ ও গণপরিষদ একসঙ্গে চালানোর মাধ্যমে অথবা নাগরিক সমাজকে পুনরায় যুক্ত করে আলোচনার ভিত্তিতে বিএনপি এই অচলাবস্থা নিরসনের পথ খুঁজছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























