ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন হাসপাতাল জাহাজ প্রেরণ: ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ, বিশ্বজুড়ে কৌতূহল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপ অঞ্চলে একটি ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সহযোগিতায় এই বিশাল হাসপাতাল জাহাজটি পাঠানো হবে। তিনি এই বার্তার সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর হাসপাতাল জাহাজ ইউএসএস মার্সির একটি ছবিও যুক্ত করেন।

ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তাদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিস্ময় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ হলো, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে already সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সরকারিভাবে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে, যা সেখানকার নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

এই ঘোষণার পর ড্যানিশ সরকার বা গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ল্যান্ড্রি এই উদ্যোগটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলকে অধিগ্রহণ বা কেনার ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। গত জানুয়ারিতে তিনি ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ভবিষ্যৎ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, যা ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দ্বীপটির সার্বভৌমত্বের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ইউএসএস মার্সি এবং ইউএসএস কমফোর্ট নামে দুটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল জাহাজ রয়েছে। এই জাহাজগুলো সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস নামে একটি সামরিক ঘাঁটি already বিদ্যমান।

ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপটি কেবল একটি মানবিক সহায়তা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্চারি ফেডারেশনে আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে গিয়ে কোষাধ্যক্ষ অপসারিত

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন হাসপাতাল জাহাজ প্রেরণ: ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ, বিশ্বজুড়ে কৌতূহল

আপডেট সময় : ০২:৫২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপ অঞ্চলে একটি ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সহযোগিতায় এই বিশাল হাসপাতাল জাহাজটি পাঠানো হবে। তিনি এই বার্তার সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর হাসপাতাল জাহাজ ইউএসএস মার্সির একটি ছবিও যুক্ত করেন।

ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তাদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিস্ময় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ হলো, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে already সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সরকারিভাবে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে, যা সেখানকার নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

এই ঘোষণার পর ড্যানিশ সরকার বা গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ল্যান্ড্রি এই উদ্যোগটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলকে অধিগ্রহণ বা কেনার ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। গত জানুয়ারিতে তিনি ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ভবিষ্যৎ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, যা ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দ্বীপটির সার্বভৌমত্বের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ইউএসএস মার্সি এবং ইউএসএস কমফোর্ট নামে দুটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল জাহাজ রয়েছে। এই জাহাজগুলো সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস নামে একটি সামরিক ঘাঁটি already বিদ্যমান।

ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপটি কেবল একটি মানবিক সহায়তা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।