নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও পাঁচজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ সদস্যদের উদ্ধার করে এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রসুলপুর গ্রামের জুলহাস মিয়ার স্ত্রী আসমা বেগম একটি সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। বুধবার রাত ১টার দিকে আড়াইহাজার থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ আসমাকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে তার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় এবং তা দ্রুত হাতাহাতি ও মারধরে রূপ নেয়।
হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— এসআই অজিত, এএসআই আরিফ, ফারুক, শরীফ, সাইফুল ও নিজাম। আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিপন কুমার সরকার জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামি আসমা বেগম অসুস্থতার ভান করেন। এ সময় তার স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্বজনরা পুলিশের কাছ থেকে ওই নারী আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য গিয়ে অবরুদ্ধ সহকর্মীদের উদ্ধার করেন। তবে পরিবারের দাবি, আসমা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে তিন নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামি আসমা বেগমকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং এই হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















