প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় বড় চমক দেখালেন সিলেটের দুই প্রভাবশালী রাজনীতিক। সিলেট-১ আসনের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তারা শপথ গ্রহণ করেন। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আরিফুল হক চৌধুরীকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে।
সিলেটের দুই জনপ্রতিনিধি প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাওয়ায় পুরো বিভাগজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে মন্ত্রিসভায় ড. রেজা কিবরিয়ার স্থান না পাওয়া নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, মন্ত্রী হওয়া এই দুই নেতাই বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জয় পায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। এই নির্বাচনে প্রথমবার নির্বাচিত ১৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে দু’জন সরাসরি পূর্ণমন্ত্রী হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কাউন্সিলর থেকে পূর্ণমন্ত্রী আরিফুল
সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে এক লাখ ১৫ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন আরিফুল হক চৌধুরী। তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের কমিশনার হিসেবে। পরবর্তীতে কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০১৮ সালেও তিনি পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে ‘প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার’ ও সুপরিকল্পিত উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে জনগণের মন জয় করেন তিনি। শপথ গ্রহণ শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। দল আমার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার প্রতিদান আমি কাজের মাধ্যমে দিতে বদ্ধপরিকর।”
ঐতিহ্যের উত্তরসূরি খন্দকার মুক্তাদির
সিলেটের মর্যাদাপূর্ণ আসন সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) থেকে এক লাখ ৭৭ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান এক লাখ ৩৫ হাজার ভোট। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই সরাসরি পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি তাকে টক অফ দ্য টাউনে পরিণত করেছে।
একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আব্দুল মালিক ছিলেন তিনবারের সংসদ সদস্য। দীর্ঘ তিন দশক পর বাবার সেই আসনটি পুনরুদ্ধার করে মুক্তাদির পরিবারের রাজনৈতিক সাফল্যে নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন। শপথ গ্রহণের পর তিনি বলেন, “সিলেটবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা আজ আমাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। দলের প্রত্যাশা পূরণে আমি আমার সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম দিয়ে কাজ করে যাব।”
সিলেটের দুই নেতার এই অভাবনীয় সাফল্যে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























