ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সংবিধান সংস্কারে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে: নাহিদ ইসলাম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় ক্ষমতাসীন বিএনপি জনগণের গণরায়কে অবজ্ঞা করেছে এবং তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশে একটি আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে শপথ পরবর্তী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গঠনের প্রথম দিনেই যারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাদের কাছ থেকে দেশ ও জাতি কী আশা করবে—এ প্রশ্ন এখন সবার মনে তৈরি হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোট যে আদেশের ভিত্তিতে হয়েছে, সেই জুলাই জাতীয় সনদের আদেশে স্পষ্ট লেখা আছে, গণভোটে “হ্যাঁ” জয়ী হলে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ একই অনুষ্ঠানে হবে। বিএনপি এই সনদে স্বাক্ষরও করেছে এবং এই আদেশ ও গণভোটকে তারা মেনে নিয়েছে। কিন্তু এখন তারা ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, গণভোট সংবিধানে নেই। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, গণভোটের বৈধতা তো সেই আদেশেই নিহিত, যা মেনে সবাই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তিনি দ্রুত শপথ নিয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কারের পক্ষে কাজ করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ড. খলিলুর রহমানের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়াকে অনৈতিক বলে মন্তব্য করেন। একই মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষতার স্বার্থে ছাত্র উপদেষ্টারা পদত্যাগ করেছিলেন, কারণ তাদের বিরুদ্ধে একটি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। এখন ড. খলিলুর রহমান যদি বিএনপি সরকারের অংশ হন, তাহলে প্রশ্ন উঠবে আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ওই রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কাজ করেছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে যে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা আমরা বলছি, ফলাফলে কারচুপি হলো, আমাদের অনেকগুলো আসনে হারিয়ে দেওয়া হলো এবং পরিকল্পনা করে দুই-তৃতীয়াংশ আসন সরকারি দল নিয়ে নিল—এসবই একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। ড. খলিলুর রহমানের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে আজ জাতির সামনে তা উন্মোচন হচ্ছে। এই সংস্কার যাতে না হয়, তার জন্যই পুরোটা একটি ইঞ্জিনিয়ারিং এই মুহূর্তে আমরা দেখতে পাচ্ছি।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোরশা উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রাশেদ, সম্পাদক শহিদুল

সংবিধান সংস্কারে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় : ১০:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় ক্ষমতাসীন বিএনপি জনগণের গণরায়কে অবজ্ঞা করেছে এবং তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশে একটি আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে শপথ পরবর্তী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গঠনের প্রথম দিনেই যারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাদের কাছ থেকে দেশ ও জাতি কী আশা করবে—এ প্রশ্ন এখন সবার মনে তৈরি হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোট যে আদেশের ভিত্তিতে হয়েছে, সেই জুলাই জাতীয় সনদের আদেশে স্পষ্ট লেখা আছে, গণভোটে “হ্যাঁ” জয়ী হলে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ একই অনুষ্ঠানে হবে। বিএনপি এই সনদে স্বাক্ষরও করেছে এবং এই আদেশ ও গণভোটকে তারা মেনে নিয়েছে। কিন্তু এখন তারা ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, গণভোট সংবিধানে নেই। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, গণভোটের বৈধতা তো সেই আদেশেই নিহিত, যা মেনে সবাই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তিনি দ্রুত শপথ নিয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কারের পক্ষে কাজ করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ড. খলিলুর রহমানের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়াকে অনৈতিক বলে মন্তব্য করেন। একই মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষতার স্বার্থে ছাত্র উপদেষ্টারা পদত্যাগ করেছিলেন, কারণ তাদের বিরুদ্ধে একটি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। এখন ড. খলিলুর রহমান যদি বিএনপি সরকারের অংশ হন, তাহলে প্রশ্ন উঠবে আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ওই রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কাজ করেছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে যে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা আমরা বলছি, ফলাফলে কারচুপি হলো, আমাদের অনেকগুলো আসনে হারিয়ে দেওয়া হলো এবং পরিকল্পনা করে দুই-তৃতীয়াংশ আসন সরকারি দল নিয়ে নিল—এসবই একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। ড. খলিলুর রহমানের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে আজ জাতির সামনে তা উন্মোচন হচ্ছে। এই সংস্কার যাতে না হয়, তার জন্যই পুরোটা একটি ইঞ্জিনিয়ারিং এই মুহূর্তে আমরা দেখতে পাচ্ছি।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।