ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে মৎস্য খামারে অগ্নিদগ্ধ জামায়াত সমর্থকের মৃত্যু: পরিবারের অভিযোগ ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরে একটি মৎস্য খামারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে আব্বাস উদ্দিন (৫৫) নামে এক জামায়াত সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজ খামারে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহতের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত আব্বাস উদ্দিন সদর উপজেলার চররমনী মোহন এলাকার মৃত হোসেনের ছেলে এবং জিতু এগ্রো মৎস্য খামারের মালিক ছিলেন। তার বড় ছেলে এলাহি প্রিন্সের দাবি, আব্বাস উদ্দিন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সদস্য ছিলেন। প্রিন্স জানান, তার বাবা ও মা খামারেই থাকতেন। ভোটের আগের রাতে দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে খামারের ভেতরে থাকা ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘরটি পুড়ে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বের হতে পারলেও আব্বাস উদ্দিন পারেননি। এতে তার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গুরুতর দগ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এলাহি প্রিন্স বলেন, “আমার বাবা মারা যাননি, তিনি শহীদ হয়েছেন। জামায়াত সমর্থক হওয়াটাই ছিল তার অপরাধ। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তার মা সুলতানা রাজিয়া লাকি লক্ষ্মীপুর পৌর ৬ নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি।

লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান জানান, ঘটনাটি ভোটের আগের দিন ঘটেছে। প্রিন্সের বাবা আব্বাস উদ্দিন দাঁড়িপাল্লার (জামায়াতের প্রতীক) সমর্থনে ভোট করেছেন এবং প্রিন্স নিজেও পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে সক্রিয়ভাবে জামায়াতের হয়ে কাজ করেছেন।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

লক্ষ্মীপুরে মৎস্য খামারে অগ্নিদগ্ধ জামায়াত সমর্থকের মৃত্যু: পরিবারের অভিযোগ ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে একটি মৎস্য খামারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে আব্বাস উদ্দিন (৫৫) নামে এক জামায়াত সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজ খামারে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহতের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত আব্বাস উদ্দিন সদর উপজেলার চররমনী মোহন এলাকার মৃত হোসেনের ছেলে এবং জিতু এগ্রো মৎস্য খামারের মালিক ছিলেন। তার বড় ছেলে এলাহি প্রিন্সের দাবি, আব্বাস উদ্দিন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সদস্য ছিলেন। প্রিন্স জানান, তার বাবা ও মা খামারেই থাকতেন। ভোটের আগের রাতে দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে খামারের ভেতরে থাকা ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘরটি পুড়ে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বের হতে পারলেও আব্বাস উদ্দিন পারেননি। এতে তার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গুরুতর দগ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এলাহি প্রিন্স বলেন, “আমার বাবা মারা যাননি, তিনি শহীদ হয়েছেন। জামায়াত সমর্থক হওয়াটাই ছিল তার অপরাধ। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তার মা সুলতানা রাজিয়া লাকি লক্ষ্মীপুর পৌর ৬ নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি।

লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান জানান, ঘটনাটি ভোটের আগের দিন ঘটেছে। প্রিন্সের বাবা আব্বাস উদ্দিন দাঁড়িপাল্লার (জামায়াতের প্রতীক) সমর্থনে ভোট করেছেন এবং প্রিন্স নিজেও পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে সক্রিয়ভাবে জামায়াতের হয়ে কাজ করেছেন।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।