ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

উল্লাপাড়ায় স্কুলছাত্র তামীম হত্যা: ৬ বছর পর ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে স্কুলছাত্র তামীম হোসেনকে (৭) হত্যার দায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে অপর এক আসামিকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মান্নান আকন্দকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার বরাদ দিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শাকিল মো. শরিফুল হায়দার (রফিক সরকার) জানান, নিহত তামীম হোসেন উল্লাপাড়া উপজেলার চকপাঙ্গাসী গ্রামের সোলেমান ফকিরের ছেলে। সে নরসিংহপাড়া গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করতো।

২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নানার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তামীম। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানা যায়, নরসিংহপাড়া গ্রামের বাবুল আকতারের সরিষার ক্ষেতে তামীমের মরদেহ পড়ে আছে। মরদেহের গলায় রশির দাগ এবং মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় তামীমের বাবা সোলেমান ফকির অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে উল্লাপাড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে তামীমকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীতে ওবায়দুল্লাহ হত্যা: ঢাকায় খণ্ডিত লাশ উদ্ধার, গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া

উল্লাপাড়ায় স্কুলছাত্র তামীম হত্যা: ৬ বছর পর ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৫:০১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে স্কুলছাত্র তামীম হোসেনকে (৭) হত্যার দায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে অপর এক আসামিকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মান্নান আকন্দকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার বরাদ দিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শাকিল মো. শরিফুল হায়দার (রফিক সরকার) জানান, নিহত তামীম হোসেন উল্লাপাড়া উপজেলার চকপাঙ্গাসী গ্রামের সোলেমান ফকিরের ছেলে। সে নরসিংহপাড়া গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করতো।

২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নানার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তামীম। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানা যায়, নরসিংহপাড়া গ্রামের বাবুল আকতারের সরিষার ক্ষেতে তামীমের মরদেহ পড়ে আছে। মরদেহের গলায় রশির দাগ এবং মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় তামীমের বাবা সোলেমান ফকির অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে উল্লাপাড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে তামীমকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।