দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সামনে এখন দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের আর্থিক খাত যে গভীর সংকটে নিমজ্জিত হয়েছিল, সেখান থেকে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরে এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, যা নতুন সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করেছে।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতিতে নেমে এসেছিল ব্যাপক মন্দা। বিনিয়োগে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, রপ্তানি আয়ে ভাটা এবং বৈদেশিক ঋণের বোঝা দেশকে জর্জরিত করে তুলেছিল। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে ধস নামে এবং ব্যাংক খাতে তৈরি হয় পাহাড়সম খেলাপি ঋণ, যা আর্থিক ব্যবস্থাকে প্রায় ভেঙে দিয়েছিল। এমন এক নাজুক পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতির হাল ধরেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো বড় কোনো বিনিয়োগ চমক ছাড়াই আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। ডলারের বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি তাদের ঈর্ষণীয় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করলেও অর্থনীতিতে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া আর্থিক খাতের সংস্কারের রূপরেখা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দিনে অর্থনীতির চাকা আরও দ্রুত ঘুরবে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার খাদের কিনারে থাকা একটি অর্থনীতিকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সে অর্থনীতিকে খাদে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতসহ আর্থিক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, লুটপাট ও দুর্নীতির প্রবণতা বন্ধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফলে অর্থনীতির নিম্নগামিতা থেমে গিয়ে স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গভীর সংকটময় অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে বের করে পুনরুদ্ধারের ধারায় ফিরিয়ে এনেছে। এখন প্রয়োজন ধারাবাহিক সংস্কার ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পূর্ণগতিতে ফিরিয়ে আনা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আর্থিক খাতের সংস্কার, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ও অনিয়ম প্রতিরোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ বন্ধ হয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত ধীরে ধীরে সুসংগঠিত কাঠামোয় ফিরে আসছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিগত ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে, যা নতুন সরকারের জন্য ইতিবাচক সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতির ক্ষতগুলো চিহ্নিত করে অর্থপাচার বহুলাংশে রোধ করেছে এবং হুন্ডির প্রভাব কমিয়ে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়িয়েছে। এর ফলে নিম্নমুখী রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ায় আমদানি ব্যয় নির্বাহ সহজ হয়েছে ও টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা মিলেছে। এতে দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য ও বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে আরও গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যানুযায়ী, পূর্ববর্তী সরকারের শেষ সময়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর আর্থিক ও মুদ্রানীতির ফলে গত জানুয়ারি মাসে তা কমে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যদিও এটি এখনো কিছুটা উচ্চমাত্রায়, তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। একইভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। অব্যবস্থাপনা ও অর্থপাচারের কারণে পূর্ববর্তী সরকারের শাসনামলে রিজার্ভ তলানিতে নেমে এলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা পুনরুদ্ধার হয়েছে। বৈধ রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, বৈদেশিক ব্যয়ের সুশাসন ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার ফলে রিজার্ভের অবস্থান এখন অনেক বেশি স্থিতিশীল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রোস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। পূর্ববর্তী সরকারের পতনের সময় গ্রোস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রিজার্ভ বেড়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় রিজার্ভের অবস্থা দুর্বল ছিল। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ শক্তিশালী রিজার্ভ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন সরকারের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে।
আগের সরকারের আমলে ভুয়া আমদানিসহ নানা উপায়ে অর্থপাচারের ঘটনা ঘটতো। এর ফলে দেশের মুদ্রাবাজারেও চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা, যা দুই বছরের ব্যবধানে বেড়ে দাঁড়ায় ১২০ টাকায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডলারের মূল্য বাজারভিত্তিক করা হলেও টাকার মান স্থিতিশীল রয়েছে, যা বর্তমানে ১২১-১২২ টাকার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। ডলারের দর ধরে রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের আমলের ঠিক বিপরীত চিত্র। সে সময় বাজার স্থিতিশীল রাখার কথা বলে ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের ডলার বিক্রি শুরু করেছিল এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত টানা তিন বছর ধরে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছিল।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাণিজ্যিক ভারসাম্যেও বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেনে বাণিজ্যিক ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৬৬০ কোটি ডলার। সে ঘাটতি কাটিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩২৯ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যা চার অর্থবছর পর অর্থনীতিতে বাণিজ্য ভারসাম্যে একটি ইতিবাচক ঘটনা। মূলত আমদানির তুলনায় রপ্তানি বৃদ্ধির কারণেই লেনদেন ভারসাম্যে এই উদ্বৃত্ত এসেছে।
পূর্ববর্তী সরকারের শাসনামলে তথ্য কারচুপির মাধ্যমে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা লুকিয়ে রাখার যে প্রবণতা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে অন্তর্বর্তী সরকার সঠিক চিত্র তুলে ধরেছে। আগের সরকারের আমলে রপ্তানি আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সংশয় ছিল। মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অর্থনীতির একটি ভালো চেহারা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা ছিল সে সময়। ব্যাংকিং খাতের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা যাক। শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক—সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক—একীভূতকরণের মাধ্যমে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। এসব ব্যাংকের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ খেলাপি হয়ে গিয়েছিল এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা ঋণাত্মক পাওয়া গেছে। অথচ পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এসব ব্যাংক মুনাফা দেখিয়েছিল। ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যেতে পারে। আগের সরকারের আমলের শুরুতে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকার মতো। তাদের পতনের সময় তা দেখানো হয় দুই লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একের পর এক খেলাপি ঋণের তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে এবং লুকানো এ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাত লুটেরা গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে চট্টগ্রামের বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের নিয়ন্ত্রণেই ছিল ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো।
ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের বাস্তব চিত্র সামনে এনে তা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ শনাক্তকরণ, ঋণ আদায়ে কঠোরতা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করার মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত আরও মজবুত হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, উদ্যোক্তা খাত ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, রিজার্ভের ওপর পূর্বের চাপ এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। ভবিষ্যতে সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতি দ্রুতগতিতে প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, অর্থনীতির মূলভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন প্রয়োজন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সুশাসন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া। তিনি আরও বলেন, বর্তমান আর্থিক ভিত্তি দেশের অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় এনে দিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে সাফল্য দেখালেও সরকারের ভেতরেরই একটি অংশের কারণে আর্থিক খাতের সংস্কার কিছুটা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ
অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিপর্যস্ত পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসতে সমর্থ হলেও নতুন সরকারের জন্য বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দুর্বল রাজস্ব আয়ের কারণে ব্যয়ের ঘাটতি পূরণে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২৫) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদেশি ঋণের বোঝাও আগামী সরকারের জন্য একটি সংকট তৈরি করতে পারে। ইআরডির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় আট শতাংশ বেশি। এদিকে দেশি ঋণও বেড়েছে। গত অর্থবছরের ১০ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন টাকা থেকে বেড়ে এটি বর্তমানে ১১ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। ঋণ ও ঋণের সুদ মওকুফেও সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে চলতি বছরের নভেম্বরে এলডিসি উত্তরণের কথা রয়েছে বাংলাদেশের। এলডিসি উত্তরণের ফলে রপ্তানিসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, সেটাও মোকাবিলা করতে হবে নতুন সরকারকে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতসহ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নেও সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















