ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

হাতিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ বেশ কিছু পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসব সহিংসতার প্রতিবাদে এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ভুক্তভোগীরা। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের রিয়াজ মার্কেট এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে রাতেই হাতিয়া থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সোনাদিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার ও রিয়াজ মার্কেট এলাকায় এনসিপি সমর্থিত একদল কর্মী পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা অন্তত ১০টি সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এমনকি বসতঘরের গবাদিপশুর ওপরও নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোট শেষ হওয়ার তিন দিন পার হলেও এখনো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব চলছে। ভুক্তভোগী দীপক চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, “আগে আওয়ামী লীগ করলেও এবার কেন ধানের শীষে ভোট দিয়েছি— এই অজুহাতে এনসিপির লোকজন আমাকে ও আমার ছেলেকে বাজারে প্রকাশ্যে মারধর করেছে।” একইভাবে কাঁকন চন্দ্র দাস জানান, তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে পকেট থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। নারীদের অভিযোগ, বিজয় মিছিলের নামে বাড়িতে ঢুকে পুরুষদের তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা এই সহিংসতার জন্য স্থানীয় এনায়েত হোসেন, মহিউদ্দিন, হান্নান ডুবাই, ওছমান ও জহিরুল ইসলামসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে দায়ী করেছেন। তাদের সহযোগী হিসেবে নাইম, কাওছার, জুয়েল ও শাকিবসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও একই ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। সেখানকার বাসিন্দা মৃদুল চন্দ্র দাসের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। মৃদুল চন্দ্র জানান, হামলাকারীরা রামদা দিয়ে তার ঘরের চারদিকে কুপিয়ে এবং দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ঘরে উপযুক্ত তিন কন্যা সন্তান থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী পল্লী চিকিৎসক খনেশ দাস বলেন, হামলাকারীরা অস্ত্র প্রদর্শন করে তাকেও হুমকি দিয়েছে, যার ফলে তিনি এখন হাটবাজারে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবানন-ইসরাইল সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা: ইসরাইলি সেনাপ্রধানের বক্তব্য

হাতিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১১:১০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ বেশ কিছু পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসব সহিংসতার প্রতিবাদে এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ভুক্তভোগীরা। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের রিয়াজ মার্কেট এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে রাতেই হাতিয়া থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সোনাদিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার ও রিয়াজ মার্কেট এলাকায় এনসিপি সমর্থিত একদল কর্মী পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা অন্তত ১০টি সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এমনকি বসতঘরের গবাদিপশুর ওপরও নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোট শেষ হওয়ার তিন দিন পার হলেও এখনো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব চলছে। ভুক্তভোগী দীপক চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, “আগে আওয়ামী লীগ করলেও এবার কেন ধানের শীষে ভোট দিয়েছি— এই অজুহাতে এনসিপির লোকজন আমাকে ও আমার ছেলেকে বাজারে প্রকাশ্যে মারধর করেছে।” একইভাবে কাঁকন চন্দ্র দাস জানান, তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে পকেট থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। নারীদের অভিযোগ, বিজয় মিছিলের নামে বাড়িতে ঢুকে পুরুষদের তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা এই সহিংসতার জন্য স্থানীয় এনায়েত হোসেন, মহিউদ্দিন, হান্নান ডুবাই, ওছমান ও জহিরুল ইসলামসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে দায়ী করেছেন। তাদের সহযোগী হিসেবে নাইম, কাওছার, জুয়েল ও শাকিবসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও একই ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। সেখানকার বাসিন্দা মৃদুল চন্দ্র দাসের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। মৃদুল চন্দ্র জানান, হামলাকারীরা রামদা দিয়ে তার ঘরের চারদিকে কুপিয়ে এবং দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ঘরে উপযুক্ত তিন কন্যা সন্তান থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী পল্লী চিকিৎসক খনেশ দাস বলেন, হামলাকারীরা অস্ত্র প্রদর্শন করে তাকেও হুমকি দিয়েছে, যার ফলে তিনি এখন হাটবাজারে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।