ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইলে জামায়াতের কার্যালয়ে আগুন, ওয়ার্ড বিএনপির কার্যক্রম স্থগিত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলে পৃথকস্থানে জামায়াতে ইসলামীর একটি সাংগঠনিক কার্যালয় ও সমর্থকের চারটি খড়ের গাদায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কার্যালয়ে আগুনের ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করেছে জামায়াত। আগুনের ঘটনায় তদন্তে ওই এলাকার ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকালে ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের মেঘারপটল এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। বিকালে হঠাৎ করেই ওই এলাকায় স্থাপিত জামায়াতের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরই জামায়াতের নেতাকর্মীরা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাজল ও তার লোকজনকে দায়ী করছেন। 

এদিকে, গাবসারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য উপজেলার বিএনপির সহসভাপতি এস এম ফরহাদুল ইসলাম শাপলাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেছে বিএনপি। রবিবার রাতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জমান তালুকদার সেলুর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেঘার পটল গ্রামে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় উক্ত গাবসারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভূঞাপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গাবসারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেঘার পটল গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যালয় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি দুঃখজনক।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জমান তালুকদার সেলু বলেন, ‘ওই দিন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৃতীয় পক্ষ ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। বিএনপির লোকজন জড়িত নয়। তারপরও বিএনপি থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাব্বির রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে লিখিত কোনও অভিযোগ দেয়নি। কে আগুন দিয়েছে এলাকার মানুষ সেটা বলতে পারে না।’

এদিকে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের হামিদপুর চৌরাস্তা বড়বাড়ী এলাকায় আমির হামজা নামের এক ব্যক্তির বাড়ির চারটি খড়ের পালায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দৃর্বৃত্তরা। বিষয়টি জানতে পেরে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সখীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গভীর রাতে আমাদের এক সমর্থকের চারটি খড়ের পালায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি দুঃখজনক। খবর পেয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খানসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবানন-ইসরাইল সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা: ইসরাইলি সেনাপ্রধানের বক্তব্য

টাঙ্গাইলে জামায়াতের কার্যালয়ে আগুন, ওয়ার্ড বিএনপির কার্যক্রম স্থগিত

আপডেট সময় : ১১:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টাঙ্গাইলে পৃথকস্থানে জামায়াতে ইসলামীর একটি সাংগঠনিক কার্যালয় ও সমর্থকের চারটি খড়ের গাদায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কার্যালয়ে আগুনের ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করেছে জামায়াত। আগুনের ঘটনায় তদন্তে ওই এলাকার ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকালে ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের মেঘারপটল এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। বিকালে হঠাৎ করেই ওই এলাকায় স্থাপিত জামায়াতের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরই জামায়াতের নেতাকর্মীরা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাজল ও তার লোকজনকে দায়ী করছেন। 

এদিকে, গাবসারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য উপজেলার বিএনপির সহসভাপতি এস এম ফরহাদুল ইসলাম শাপলাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেছে বিএনপি। রবিবার রাতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জমান তালুকদার সেলুর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেঘার পটল গ্রামে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় উক্ত গাবসারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভূঞাপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গাবসারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেঘার পটল গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যালয় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি দুঃখজনক।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জমান তালুকদার সেলু বলেন, ‘ওই দিন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৃতীয় পক্ষ ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। বিএনপির লোকজন জড়িত নয়। তারপরও বিএনপি থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাব্বির রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে লিখিত কোনও অভিযোগ দেয়নি। কে আগুন দিয়েছে এলাকার মানুষ সেটা বলতে পারে না।’

এদিকে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের হামিদপুর চৌরাস্তা বড়বাড়ী এলাকায় আমির হামজা নামের এক ব্যক্তির বাড়ির চারটি খড়ের পালায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দৃর্বৃত্তরা। বিষয়টি জানতে পেরে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সখীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গভীর রাতে আমাদের এক সমর্থকের চারটি খড়ের পালায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি দুঃখজনক। খবর পেয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খানসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।’