ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই চাকরি, যোগ দিতে এসে ধরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, কোনো লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে এসে ধরা পড়েছেন এক চাকরিপ্রার্থী। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এ। এই ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং কোনো মহলের যোগসাজশ ছিল কি না, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে। সুজা মিয়া (৩২) নামের ওই ব্যক্তি ব্রির প্লাম্বার পদে যোগদান করতে আসেন। শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার বাসিন্দা সুজা মিয়া নিজেকে ফজলুল হকের ছেলে বলে পরিচয় দেন। ব্রি সূত্র জানিয়েছে, গত বছর ৫ অক্টোবর দুটি প্লাম্বার পদসহ মোট ১৯টি শূন্য পদে ৩১ জনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এই বছরের জানুয়ারিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং উত্তীর্ণদের কাছে যোগদানপত্র পাঠানো হয়। সুজা মিয়া গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার নিয়োগপত্র পান। তবে, প্রথমে তাকে বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হলেও পরে গাজীপুর সদর দপ্তরে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সদর দপ্তরে পৌঁছানোর পর কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ জাগে। তাদের প্রাথমিক কাগজপত্র যাচাইয়ের সময়েই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। দেখা যায়, সুজা মিয়ার এডমিট কার্ডে ‘মিলন মিয়া’ নামে অন্য এক ব্যক্তির ছবি লাগানো রয়েছে। এর অর্থ হলো, সুজা মিয়ার হয়ে পরীক্ষায় অন্য কেউ অংশগ্রহণ করেছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সুজা মিয়া দাবি করেন যে তিনি মিলন মিয়াকে চেনেন না। তিনি আরও জানান যে, শ্রীবরদী এলাকার মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে এই চাকরি পেয়েছেন। এরপরই তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আটকের খবর শুনে সুজা মিয়ার ভায়রা ভাই সজল মিয়া তার শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে ব্রির সদর দপ্তরে আসেন। জানা গেছে, সজল মিয়ার বাড়ি ব্রির মহাপরিচালকের গ্রামের বাড়ির পাশেই, যা এই ঘটনাকে ঘিরে আরও রহস্যের জন্ম দিয়েছে। তবে, সজল মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান যে, তিনি গাজীপুর মহানগরের হায়দরাবাদ এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ির পাশে ভাড়া থাকেন। আগের রাতে সুজা মিয়া তার বাসায় ছিলেন এবং সকালে ব্রিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হওয়ার খবর পেয়ে তিনি কেবল দেখা করতে এসেছিলেন।

ঘটনার সময় ব্রির মহাপরিচালক অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ জালিয়াতির এই ঘটনায় ব্রির কর্তৃপক্ষ সুজা মিয়াকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই ধরনের জালিয়াতির পেছনে কোনো দালালচক্র বা কোনো অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রটিকে উদ্ঘাটন করার জন্য কাজ চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবানন-ইসরাইল সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা: ইসরাইলি সেনাপ্রধানের বক্তব্য

পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই চাকরি, যোগ দিতে এসে ধরা

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, কোনো লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে এসে ধরা পড়েছেন এক চাকরিপ্রার্থী। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এ। এই ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং কোনো মহলের যোগসাজশ ছিল কি না, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে। সুজা মিয়া (৩২) নামের ওই ব্যক্তি ব্রির প্লাম্বার পদে যোগদান করতে আসেন। শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার বাসিন্দা সুজা মিয়া নিজেকে ফজলুল হকের ছেলে বলে পরিচয় দেন। ব্রি সূত্র জানিয়েছে, গত বছর ৫ অক্টোবর দুটি প্লাম্বার পদসহ মোট ১৯টি শূন্য পদে ৩১ জনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এই বছরের জানুয়ারিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং উত্তীর্ণদের কাছে যোগদানপত্র পাঠানো হয়। সুজা মিয়া গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার নিয়োগপত্র পান। তবে, প্রথমে তাকে বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হলেও পরে গাজীপুর সদর দপ্তরে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সদর দপ্তরে পৌঁছানোর পর কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ জাগে। তাদের প্রাথমিক কাগজপত্র যাচাইয়ের সময়েই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। দেখা যায়, সুজা মিয়ার এডমিট কার্ডে ‘মিলন মিয়া’ নামে অন্য এক ব্যক্তির ছবি লাগানো রয়েছে। এর অর্থ হলো, সুজা মিয়ার হয়ে পরীক্ষায় অন্য কেউ অংশগ্রহণ করেছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সুজা মিয়া দাবি করেন যে তিনি মিলন মিয়াকে চেনেন না। তিনি আরও জানান যে, শ্রীবরদী এলাকার মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে এই চাকরি পেয়েছেন। এরপরই তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আটকের খবর শুনে সুজা মিয়ার ভায়রা ভাই সজল মিয়া তার শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে ব্রির সদর দপ্তরে আসেন। জানা গেছে, সজল মিয়ার বাড়ি ব্রির মহাপরিচালকের গ্রামের বাড়ির পাশেই, যা এই ঘটনাকে ঘিরে আরও রহস্যের জন্ম দিয়েছে। তবে, সজল মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান যে, তিনি গাজীপুর মহানগরের হায়দরাবাদ এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ির পাশে ভাড়া থাকেন। আগের রাতে সুজা মিয়া তার বাসায় ছিলেন এবং সকালে ব্রিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হওয়ার খবর পেয়ে তিনি কেবল দেখা করতে এসেছিলেন।

ঘটনার সময় ব্রির মহাপরিচালক অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ জালিয়াতির এই ঘটনায় ব্রির কর্তৃপক্ষ সুজা মিয়াকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই ধরনের জালিয়াতির পেছনে কোনো দালালচক্র বা কোনো অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রটিকে উদ্ঘাটন করার জন্য কাজ চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।