ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সাংবাদিক আসাদুল্লাহকে গ্রেপ্তার ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ: নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাংবাদিক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনো আইনি প্রয়োজনীয়তা নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই পুলিশ আসাদুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়। তার স্ত্রী নাঈমা আক্তার রিমা অভিযোগ করেন, একটি পুরোনো মামলাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা। তিনি অবিলম্বে স্বামীর মুক্তি এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে পরিবার জানায়, নির্বাচনের পরদিন রাতে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক কর্মী আসাদুল্লাহর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তার এবং তার বৃদ্ধ পিতার গায়ে জোরপূর্বক রং মাখিয়ে দেয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করায় সংশ্লিষ্টরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই পুলিশ ডেকে এনে আসাদুল্লাহকে পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।

এদিকে, আসাদুল্লাহর বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। পরিবারের দাবি, ওই স্ট্যাটাসের পর স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা আসাদুল্লাহর বৃদ্ধ পিতাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এতে পুরো পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

আসাদুল্লাহর স্বজনদের মতে, পেশাগত জীবনে তিনি একজন নির্ভীক সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে সবসময় অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এই কারণেই একটি বিশেষ মহল তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছিল।

অন্যদিকে পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালের একটি চেক ডিজঅনার মামলায় আসাদুল্লাহ সাজাপ্রাপ্ত এবং তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও কেন আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের টাইমিং এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি।

বর্তমানে মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ পাবনা জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। প্রশাসনের কাছে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারও সরকারি ছুটি ফিরছে ৭ নভেম্বর: পালিত হবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’

সাংবাদিক আসাদুল্লাহকে গ্রেপ্তার ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ: নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের দাবি

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাংবাদিক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনো আইনি প্রয়োজনীয়তা নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই পুলিশ আসাদুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়। তার স্ত্রী নাঈমা আক্তার রিমা অভিযোগ করেন, একটি পুরোনো মামলাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা। তিনি অবিলম্বে স্বামীর মুক্তি এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে পরিবার জানায়, নির্বাচনের পরদিন রাতে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক কর্মী আসাদুল্লাহর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তার এবং তার বৃদ্ধ পিতার গায়ে জোরপূর্বক রং মাখিয়ে দেয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করায় সংশ্লিষ্টরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই পুলিশ ডেকে এনে আসাদুল্লাহকে পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।

এদিকে, আসাদুল্লাহর বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। পরিবারের দাবি, ওই স্ট্যাটাসের পর স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা আসাদুল্লাহর বৃদ্ধ পিতাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এতে পুরো পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

আসাদুল্লাহর স্বজনদের মতে, পেশাগত জীবনে তিনি একজন নির্ভীক সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে সবসময় অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এই কারণেই একটি বিশেষ মহল তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছিল।

অন্যদিকে পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালের একটি চেক ডিজঅনার মামলায় আসাদুল্লাহ সাজাপ্রাপ্ত এবং তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও কেন আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের টাইমিং এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি।

বর্তমানে মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ পাবনা জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। প্রশাসনের কাছে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।