আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই আসনের মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮৫টি কেন্দ্রকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার ৫৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬টি এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন বলছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরাধী চক্রের তৎপরতা এবং সংঘাতের আশঙ্কায় এসব কেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে এই কেন্দ্রগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার ২০৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৮ জন। এছাড়া ২ জন হিজড়া ভোটারও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতসহ মোট পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোবাইল টিমের টহল জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, কেবল কাগজে-কলমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ালেই হবে না, ভোটের দিন মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সংঘাতের আশঙ্কা থেকে যায়, যা পুরো নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা। প্রশাসনের দাবি, যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের দিনের পরিস্থিতি কেমন থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে জামালপুর-১ আসনের নির্বাচনী ভাগ্য।
রিপোর্টারের নাম 























