একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী ও তানোর) আসনটিতে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচনী লড়াইয়ের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যেকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসনটির ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে ভোটারদের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে।
চার প্রার্থীর মধ্যে তিনজনেরই বাড়ি গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় ভোট নিজেদের দিকে টানতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। ফলে নির্বাচনের ফলাফল মূলত তানোর উপজেলার ভোটারদের মতামতের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যে প্রার্থী তানোর থেকে অধিক সংখ্যক ভোট আদায় করতে পারবেন এবং একইসাথে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোট ও প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট নিজেদের পক্ষে আনতে পারবেন, তার জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে।
ভোটারদের মতে, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ‘ধানের শীষ’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। যদিও মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭০৪ জন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ১৯৮৬ সালে একবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের বড় ভাই।
অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন এবি পার্টির ঈগল প্রতীকের আব্দুর রহমান এবং গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের মীর ম. শাহজাহান। তবে, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় তাদের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়ছে না। বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, পথসভা এবং কর্মীসমাবেশের মতো কার্যক্রমগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এর বিপরীতে, এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের গণসংযোগ তেমনভাবে লক্ষ্য করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে, অনেক ভোটারই মনে করছেন যে ভোটের লড়াই কার্যত একটি দ্বিমুখী প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে এবং উল্লেখিত দুই প্রার্থীর মধ্যে যেকোনো একজনই আসনটি জয়লাভ করবেন।
রিপোর্টারের নাম 























