ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধায় জাতীয় পার্টির দুর্গ কাঁপিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন হেভিওয়েট নেতা ও ৬ শতাধিক নেতাকর্মী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বড় রাজনৈতিক চমক দেখা দিয়েছে। উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা, তাঁর সহস্রাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। তাঁর সঙ্গে সদস্য সচিব প্রভাষক মইদুল হক নয়নও দল পরিবর্তন করেছেন।

স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত আতাউর রহমান সরকার আতা এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ছিলেন। নির্বাচনের মাত্র একদিন পূর্বে তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিএনপিতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং দলটিকে অনেকটাই নির্ভার করে তুলেছে। বর্তমানে উপজেলাজুড়ে এই ঘটনাটিই প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ঘুড়িডহের ডাকবাংলা বাজারে এক ঘরোয়া পরিবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, জেলা বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল কবির রাঙ্গা, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান সোহাগ, সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবং ঘুড়িডহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপ, এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই যোগদানকে ‘বড় চমক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। আতাউর রহমান সরকার আতা শুধু জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানই ছিলেন না, তিনি গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাঘাটা উপজেলা জাপার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর মতো একজন হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগ সাঘাটা উপজেলায় জাতীয় পার্টির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দলবদলের পর আতাউর রহমান আতা বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ দল। এই দলের সাথে যুক্ত থেকে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।”

এই প্রসঙ্গে সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, “বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর এই যোগদান নিঃসন্দেহে দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।”

দীর্ঘদিন ধরে সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু আতাউর রহমান সরকারের দলত্যাগের ফলে সেই দুর্গের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা বেশ শক্তিশালী দেখা যাচ্ছে এবং দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মার্চ: টিভি পর্দায় ক্রিকেট-ফুটবলের ডাবল ধামাকা!

গাইবান্ধায় জাতীয় পার্টির দুর্গ কাঁপিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন হেভিওয়েট নেতা ও ৬ শতাধিক নেতাকর্মী

আপডেট সময় : ০৫:১৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বড় রাজনৈতিক চমক দেখা দিয়েছে। উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা, তাঁর সহস্রাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। তাঁর সঙ্গে সদস্য সচিব প্রভাষক মইদুল হক নয়নও দল পরিবর্তন করেছেন।

স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত আতাউর রহমান সরকার আতা এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ছিলেন। নির্বাচনের মাত্র একদিন পূর্বে তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিএনপিতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং দলটিকে অনেকটাই নির্ভার করে তুলেছে। বর্তমানে উপজেলাজুড়ে এই ঘটনাটিই প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ঘুড়িডহের ডাকবাংলা বাজারে এক ঘরোয়া পরিবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, জেলা বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল কবির রাঙ্গা, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান সোহাগ, সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবং ঘুড়িডহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপ, এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই যোগদানকে ‘বড় চমক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। আতাউর রহমান সরকার আতা শুধু জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানই ছিলেন না, তিনি গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাঘাটা উপজেলা জাপার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর মতো একজন হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগ সাঘাটা উপজেলায় জাতীয় পার্টির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দলবদলের পর আতাউর রহমান আতা বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ দল। এই দলের সাথে যুক্ত থেকে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।”

এই প্রসঙ্গে সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, “বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর এই যোগদান নিঃসন্দেহে দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।”

দীর্ঘদিন ধরে সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু আতাউর রহমান সরকারের দলত্যাগের ফলে সেই দুর্গের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা বেশ শক্তিশালী দেখা যাচ্ছে এবং দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে।