টানা ২০ দিনের জমজমাট ও বর্ণিল নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের জনসভা, মিছিল ও প্রচারণা বন্ধ রাখার বিধান থাকায় এখন মাঠজুড়ে কেবলই ভোটের অপেক্ষা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ এবং একই সাথে সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে ‘গণভোট’ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান ও মাঠের চিত্র: এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। ইসি সূত্র অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হবে; জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন ২৭৫ জন। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯১ জন বিএনপির (ধানের শীষ), ২৫৮ জন ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা), ২২৯ জন জামায়াতে ইসলামীর (দাঁড়িপাল্লা) এবং ১৯৮ জন জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও নতুন দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ জন প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। ভোটার সংখ্যার হিসেবে দেশের বৃহত্তম নির্বাচনী এলাকা গাজীপুর-২ এবং ক্ষুদ্রতম ঝালকাঠি-১ আসন।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহার: সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় নিযুক্ত থাকছেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে এবার ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে ইসি। ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন-৩৩৩’ এবং ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে বিশেষ অ্যাপের পাশাপাশি প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকছেন ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন এবং প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক।
শীর্ষ নেতাদের শেষ বার্তা: প্রচারণার শেষ দিনে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা বিটিভির মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমাদের লড়াই শুধু ক্ষমতা দখলের নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।’ তিনি অঙ্গীকার করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হবে না এবং শাসকরা নিজেদের জনগণের সেবক মনে করবে।
একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ভাষণে দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার এবং সরকার হবে জনগণের। আমরা দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদকে ‘না’ এবং ইনসাফকে ‘হ্যাঁ’ বলতে চাই।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। একই সাথে দেশের নাগরিকরা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়ে তাঁদের রায় জানাবেন।
রিপোর্টারের নাম 



















