ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১২ ফেব্রুয়ারি ভোট: ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সুরক্ষা বলয়ে দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ সামনে রেখে দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ উপলক্ষে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল থেকে দেশব্যাপী সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ শুরু করেছেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিন্যাস: অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছেন। বাহিনীর সদস্য সংখ্যা নিম্নরূপ:

  • সেনাবাহিনী: ১ লাখ (প্রায়)
  • পুলিশ: ১ লাখ ৫৭ হাজার (প্রায়)
  • আনসার ও ভিডিপি: ৫ লাখ ৬৭ হাজার
  • বিজিবি: ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন
  • কোস্টগার্ড ও অন্যান্য: প্রায় ১৫ হাজার
  • ম্যাজিস্ট্রেট: ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।

সশস্ত্র বাহিনীর নতুন ভূমিকা: এবারের নির্বাচনে বড় পরিবর্তন হলো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। আগে তারা কেবল ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে কাজ করলেও এবার প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনীর হাতে থাকছে বিশেষ ‘ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার’।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সুরক্ষা: পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬ হাজার ৩৫৯টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ (গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • সাধারণ কেন্দ্র: মহানগর এলাকার বাইরে ১৬-১৭ জন এবং মহানগর এলাকায় ১৬ জন সদস্য।
  • ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: মহানগর এলাকার বাইরে ১৭-১৮ জন এবং মহানগর এলাকায় ১৭ জন সদস্য।
  • দুর্গম এলাকা: পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে ১৮ জন পর্যন্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে। খাগড়াছড়ির মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি: নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবার নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়েছে:
১. নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপ: কোনো কেন্দ্রে সহিংসতা বা গোলযোগ হলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বার্তা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছে যাবে।
২. বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে ক্যামেরা থাকবে এবং ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে নজরদারি চালানো হবে।
৩. জরুরি সেবা ৯৯৯: এই নম্বরের অধীনে একটি বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা নির্বাচনি সহায়তা প্রদান করবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গতকাল রংপুরে জানিয়েছেন, এবার ভোট কারচুপির কোনো শঙ্কা নেই। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল বাহিনী মাঠে বিশেষভাবে তৎপর থাকবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

কুকুরের তাণ্ডবে নীলফামারীতে ১৪ জন আহত, ভ্যাকসিন সংকটে ভোগান্তি চরমে

১২ ফেব্রুয়ারি ভোট: ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সুরক্ষা বলয়ে দেশ

আপডেট সময় : ০১:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ সামনে রেখে দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ উপলক্ষে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল থেকে দেশব্যাপী সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ শুরু করেছেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিন্যাস: অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছেন। বাহিনীর সদস্য সংখ্যা নিম্নরূপ:

  • সেনাবাহিনী: ১ লাখ (প্রায়)
  • পুলিশ: ১ লাখ ৫৭ হাজার (প্রায়)
  • আনসার ও ভিডিপি: ৫ লাখ ৬৭ হাজার
  • বিজিবি: ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন
  • কোস্টগার্ড ও অন্যান্য: প্রায় ১৫ হাজার
  • ম্যাজিস্ট্রেট: ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।

সশস্ত্র বাহিনীর নতুন ভূমিকা: এবারের নির্বাচনে বড় পরিবর্তন হলো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। আগে তারা কেবল ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে কাজ করলেও এবার প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনীর হাতে থাকছে বিশেষ ‘ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার’।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সুরক্ষা: পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬ হাজার ৩৫৯টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ (গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • সাধারণ কেন্দ্র: মহানগর এলাকার বাইরে ১৬-১৭ জন এবং মহানগর এলাকায় ১৬ জন সদস্য।
  • ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: মহানগর এলাকার বাইরে ১৭-১৮ জন এবং মহানগর এলাকায় ১৭ জন সদস্য।
  • দুর্গম এলাকা: পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে ১৮ জন পর্যন্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে। খাগড়াছড়ির মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি: নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবার নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়েছে:
১. নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপ: কোনো কেন্দ্রে সহিংসতা বা গোলযোগ হলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বার্তা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছে যাবে।
২. বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে ক্যামেরা থাকবে এবং ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে নজরদারি চালানো হবে।
৩. জরুরি সেবা ৯৯৯: এই নম্বরের অধীনে একটি বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা নির্বাচনি সহায়তা প্রদান করবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গতকাল রংপুরে জানিয়েছেন, এবার ভোট কারচুপির কোনো শঙ্কা নেই। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল বাহিনী মাঠে বিশেষভাবে তৎপর থাকবে।