ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৯ লাখ সদস্যের নিরাপত্তা বলয়ে দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারা দেশে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই মহাযজ্ঞকে ঘিরে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সব ধরনের নির্বাচনি প্রচার শেষ করতে হবে। সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে থাকছেন ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, যারা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

শনিবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে ছিল, আজ থেকে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার হবে। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন অবস্থান করবে। সব জেলায় ব্যালট বাক্স পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলো গ্রহণ করছেন। এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা।”

নিরাপত্তা বাহিনীর বিন্যাস: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ সদস্যের এক বিশাল নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • আনসার ও ভিডিপি: প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার সদস্য (মূলত ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে)।
  • পুলিশ: প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সদস্য।
  • সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ, বিমান): ১ লাখ সদস্য (ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায়)।
  • বিজিবি: ৩৫ হাজার সদস্য।
  • র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও এপিবিএন: মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে।

কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা: প্রতিটি সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত ২৫টি জেলার নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতেও একই হারে সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তারা ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা প্রদান করবেন।

অভিযোগ ও তথ্যের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা: নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম, সহিংসতা বা অভিযোগ জানাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ ‘আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করেছে। নাগরিকরা ল্যান্ডফোন নম্বর (০২-৪৭১১৮৭০০ থেকে ৭০৩) এবং মোবাইল নম্বরে (০১৫৫০-০৬৪২২৬ ও ০১৫৫০-০৬৪২২৭) যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়া এটুআই-এর জাতীয় সহায়তা নম্বর ৩৩৩-এ ফোন করে ‘৯’ চেপে নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ বা অনিয়মের খবর দেওয়া যাবে।

নির্বাচন কমিশনার দেশের বর্তমান আন্দোলনরত গোষ্ঠীগুলোকে নির্বাচনের স্বার্থে আপাতত কর্মসূচি পরিহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কমিশন মনে করে নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো আছে। ভোটাররা এখন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।” উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ২ হাজার ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং প্রায় ১৩ কোটি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

৯ লাখ সদস্যের নিরাপত্তা বলয়ে দেশ

আপডেট সময় : ০১:০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারা দেশে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই মহাযজ্ঞকে ঘিরে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সব ধরনের নির্বাচনি প্রচার শেষ করতে হবে। সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে থাকছেন ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, যারা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

শনিবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে ছিল, আজ থেকে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার হবে। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন অবস্থান করবে। সব জেলায় ব্যালট বাক্স পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলো গ্রহণ করছেন। এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা।”

নিরাপত্তা বাহিনীর বিন্যাস: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ সদস্যের এক বিশাল নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • আনসার ও ভিডিপি: প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার সদস্য (মূলত ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে)।
  • পুলিশ: প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সদস্য।
  • সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ, বিমান): ১ লাখ সদস্য (ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায়)।
  • বিজিবি: ৩৫ হাজার সদস্য।
  • র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও এপিবিএন: মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে।

কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা: প্রতিটি সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত ২৫টি জেলার নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতেও একই হারে সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তারা ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা প্রদান করবেন।

অভিযোগ ও তথ্যের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা: নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম, সহিংসতা বা অভিযোগ জানাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ ‘আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করেছে। নাগরিকরা ল্যান্ডফোন নম্বর (০২-৪৭১১৮৭০০ থেকে ৭০৩) এবং মোবাইল নম্বরে (০১৫৫০-০৬৪২২৬ ও ০১৫৫০-০৬৪২২৭) যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়া এটুআই-এর জাতীয় সহায়তা নম্বর ৩৩৩-এ ফোন করে ‘৯’ চেপে নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ বা অনিয়মের খবর দেওয়া যাবে।

নির্বাচন কমিশনার দেশের বর্তমান আন্দোলনরত গোষ্ঠীগুলোকে নির্বাচনের স্বার্থে আপাতত কর্মসূচি পরিহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কমিশন মনে করে নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো আছে। ভোটাররা এখন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।” উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ২ হাজার ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং প্রায় ১৩ কোটি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।