বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে আর কোনো বিভাজন তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মেধার ভিত্তিতেই প্রত্যেকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে এবং যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন করা হবে।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি স্থানীয় উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, হবিগঞ্জের চা বাগানগুলোকে আধুনিকায়ন করে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করা হবে।
রাজনীতিকে ভোগের বস্তু নয় বরং সেবার মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নয়, বরং পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছি।” বিগত দিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমন এক সময় গেছে যখন ভিক্ষুকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হতো। তবে ভবিষ্যতে এই দেশে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না এবং তা চিরতরে বন্ধ করা হবে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পূর্ববর্তী শাসকদের ব্যর্থতাকে দায়ী করে জামায়াত আমির বলেন, কেবল অসৎ নেতৃত্বের কারণেই এদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, “আমরা যদি জনগণের রায়ে নির্বাচিত হই, তবে প্রতি বছর জনগণের সামনে আমাদের আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব পেশ করব।”
নারীদের মর্যাদা রক্ষা প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা মা-বোনদের অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেছেন, তাদের দেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশ আজ সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে, যার দায়ভার বিগত ক্ষমতাধরদের ওপরই বর্তায়। বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এদেশের মানুষ অকাতরে প্রাণ দিলেও কেবল অসৎ রাজনীতির কারণে আজও বৈষম্য দূর হয়নি। এই বৈষম্য দূর করে একটি ইনসাফ কায়েম করাই হবে আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।
রিপোর্টারের নাম 























