জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় বক্তারা বলেছেন, শহীদ সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ ছিলেন মানবিক ও জনমুখী সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গণমানুষের প্রতিনিধিত্বশীল সাংবাদিকতায় তিনি ছিলেন অতুলনীয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার লেখনী ছিল আপসহীন।
বন্ধুজন সংগঠন আয়োজিত এ সভায় বক্তারা ফরহাদ খাঁ’র সাংবাদিকতা জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, ফরহাদ খাঁ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের উপকার করা এবং সমাজকে সচেতন করে তোলা। সাদামাটা জীবনযাপন করলেও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তার লেখনী ছিল অনন্য ও শক্তিশালী। বর্তমান সময়ে তার মতো পরোপকারী ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক খুঁজে পাওয়া কঠিন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, শহীদ সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ ছিলেন অত্যন্ত আশাবাদী একজন মানুষ। কেউ পথ হারালে তিনি তাকে সঠিক পথের দিশা দিতেন। কেবল নিজেই নন, অন্য সহকর্মীদেরও তিনি রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত হতে নিরুৎসাহিত করতেন। তিনি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পাশে থাকতেন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতেন। সমাজের প্রতি ও রাষ্ট্রের প্রতি প্রত্যেকের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই ছিল তার মূল চিন্তা।
স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শহীদ সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ’র একমাত্র মেয়ে আইরিন পারভীন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার আপনজন বলতে কেউ নেই, আমি যেন এক জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছি।” বাবার দ্রুত বিচার কার্যকর করার জন্য তিনি উপস্থিত সকলের কাছে জোরালো দাবি জানান।
বন্ধুজন সংগঠনের আহ্বায়ক রাজেন্দ্র চন্দ্র দেব মন্টু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন ডা. মোক্তাদির, আতিকুল ইসলাম, নান্টু রায়, আবদুল বারী, শহিদুল ইসলাম, শেফালী দেউসী, আশা মনি, সিকদার আব্দুল ছালাম, গোলাম নবী ও জয়া শহীদ।
রিপোর্টারের নাম 
























