ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

অপসংস্কৃতি জাতীয় মূল্যবোধ ধ্বংস করছে, তরুণদের রক্ষায় দেশীয় সংস্কৃতি অপরিহার্য: কাদের গনি চৌধুরী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, অপসংস্কৃতি মানুষের বিবেকের দরজায় তালা ঝুলিয়ে জাতীয় মূল্যবোধকে গলাটিপে হত্যা করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অপসংস্কৃতির হিংস্র ছোবলে তরুণ সমাজ বিপথগামী হলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে “দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে আমাদের করণীয়” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের গনি চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে সংস্কৃতি ও অপসংস্কৃতির মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংস্কৃতি সভ্যতার ভিত্তি এবং সুন্দরের পথ দেখায়। অন্যদিকে, অপসংস্কৃতি মানুষকে অসুন্দরের পথে ঠেলে দেয় এবং অন্ধকারের দিকে ধাবিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, অপসংস্কৃতির চমক মরীচিকার মতো ক্ষণিকের উত্তেজনা ও আনন্দ দিলেও তা মানুষকে তার মা, মাটি ও দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তরুণ সমাজের একটি অংশ এই ক্ষণিকের মোহে আকৃষ্ট হচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমা চটকদার সংস্কৃতি আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে কুঠারাঘাত করছে, যার ফলে আমরা ক্রমশ আমাদের স্বকীয়তা হারিয়ে সাংস্কৃতিক দৈন্যের দিকে ধাবিত হচ্ছি। একটি দেশের সভ্যতা ও কৃষ্টি কেমন ঐতিহ্যমণ্ডিত, তা তার সংস্কৃতির স্বরূপেই বোঝা যায়। যখন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল দূষিত হয়, তখনই জাতির অধঃপতন শুরু হয় এবং জাতীয় জীবনে অনৈক্য, বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

কাদের গনি চৌধুরী বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে এক নতুন ধরনের যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, আজকের দিনে কোনো দেশের রাজনৈতিক, ভাষা-কৃষ্টি, সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থা কবজা করার জন্য তলোয়ার উঁচিয়ে যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না, বরং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনই যথেষ্ট। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে সংস্কৃতির চাবিকাঠি করপোরেট বেনিয়াদের হাতে চলে গেছে। তারা বিপুল অর্থ ঢেলে মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থকে সংস্কৃতির উপকরণ হিসেবে প্রচার করে দেশজুড়ে অপসংস্কৃতির প্লাবন বইয়ে দিচ্ছে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি মোতাহার হোসেন চৌধুরীর একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ভোগবাদী মতবাদ ঝড়ের মতো জীবনের সব মুকুল ঝরিয়ে দেয়, কিন্তু সংস্কৃতি দখিন হাওয়ার মতো জীবনের সব ফুল ফুটিয়ে তোলে। তাই বিশ্বায়নের যুগে ভিনদেশি ছায়াছবি বা গান সোশ্যাল মিডিয়ায় এলেও চোখবুজে বা কানে তুলো দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। বরং লোকজ সংস্কৃতির বিকাশকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এর শেকড়কে আরও মজবুত করতে হবে।

সামাজিক সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি লায়ন আনোয়ারা বেগম নিপার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, তাশিক আহমেদ, কামরুল হাসান দর্পণ, এম এ সায়েম মাসুম, সিদ্দিক আল মামুন, কাদের মনসুর, আকতার হোসেন এবং মোল্লা নাসির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মঞ্জুর হোসেন ইসা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতার দম্ভ ক্ষণস্থায়ী: ইতিহাসের শিক্ষা

অপসংস্কৃতি জাতীয় মূল্যবোধ ধ্বংস করছে, তরুণদের রক্ষায় দেশীয় সংস্কৃতি অপরিহার্য: কাদের গনি চৌধুরী

আপডেট সময় : ১১:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, অপসংস্কৃতি মানুষের বিবেকের দরজায় তালা ঝুলিয়ে জাতীয় মূল্যবোধকে গলাটিপে হত্যা করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অপসংস্কৃতির হিংস্র ছোবলে তরুণ সমাজ বিপথগামী হলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে “দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে আমাদের করণীয়” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের গনি চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে সংস্কৃতি ও অপসংস্কৃতির মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংস্কৃতি সভ্যতার ভিত্তি এবং সুন্দরের পথ দেখায়। অন্যদিকে, অপসংস্কৃতি মানুষকে অসুন্দরের পথে ঠেলে দেয় এবং অন্ধকারের দিকে ধাবিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, অপসংস্কৃতির চমক মরীচিকার মতো ক্ষণিকের উত্তেজনা ও আনন্দ দিলেও তা মানুষকে তার মা, মাটি ও দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তরুণ সমাজের একটি অংশ এই ক্ষণিকের মোহে আকৃষ্ট হচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমা চটকদার সংস্কৃতি আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে কুঠারাঘাত করছে, যার ফলে আমরা ক্রমশ আমাদের স্বকীয়তা হারিয়ে সাংস্কৃতিক দৈন্যের দিকে ধাবিত হচ্ছি। একটি দেশের সভ্যতা ও কৃষ্টি কেমন ঐতিহ্যমণ্ডিত, তা তার সংস্কৃতির স্বরূপেই বোঝা যায়। যখন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল দূষিত হয়, তখনই জাতির অধঃপতন শুরু হয় এবং জাতীয় জীবনে অনৈক্য, বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

কাদের গনি চৌধুরী বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে এক নতুন ধরনের যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, আজকের দিনে কোনো দেশের রাজনৈতিক, ভাষা-কৃষ্টি, সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থা কবজা করার জন্য তলোয়ার উঁচিয়ে যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না, বরং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনই যথেষ্ট। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে সংস্কৃতির চাবিকাঠি করপোরেট বেনিয়াদের হাতে চলে গেছে। তারা বিপুল অর্থ ঢেলে মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থকে সংস্কৃতির উপকরণ হিসেবে প্রচার করে দেশজুড়ে অপসংস্কৃতির প্লাবন বইয়ে দিচ্ছে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি মোতাহার হোসেন চৌধুরীর একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ভোগবাদী মতবাদ ঝড়ের মতো জীবনের সব মুকুল ঝরিয়ে দেয়, কিন্তু সংস্কৃতি দখিন হাওয়ার মতো জীবনের সব ফুল ফুটিয়ে তোলে। তাই বিশ্বায়নের যুগে ভিনদেশি ছায়াছবি বা গান সোশ্যাল মিডিয়ায় এলেও চোখবুজে বা কানে তুলো দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। বরং লোকজ সংস্কৃতির বিকাশকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এর শেকড়কে আরও মজবুত করতে হবে।

সামাজিক সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি লায়ন আনোয়ারা বেগম নিপার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, তাশিক আহমেদ, কামরুল হাসান দর্পণ, এম এ সায়েম মাসুম, সিদ্দিক আল মামুন, কাদের মনসুর, আকতার হোসেন এবং মোল্লা নাসির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মঞ্জুর হোসেন ইসা।