রাজধানীর বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবে আগামী শনিবার, ৩১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে চতুর্দশ যাকাত ফেয়ার ২০২৬। ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় যাকাত’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই ফেয়ারে দেশজুড়ে এক লাখ কোটি টাকা যাকাত সংগ্রহের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হবে, যা একটি বৈষম্যহীন ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আয়োজকরা মনে করছেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই ফেয়ার।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফেয়ার অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে এক লাখ কোটি টাকা যাকাত সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল অর্থ সঠিকভাবে সংগ্রহ ও বিতরণের মাধ্যমে বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব। ড. মজিদ আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের মানুষের মধ্যে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে যাকাত একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। তাঁর মতে, যাকাত শুধু অভাবীদের আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার একটি প্রক্রিয়া, যাতে তারাও ভবিষ্যতে দাতা হিসেবে সমাজে অবদান রাখতে পারে।
সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের (সিজেডএম) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া সংবাদ সম্মেলনে জানান, চলতি বছরে তাদের ৯০ কোটি টাকা যাকাত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
তিনি সিজেডএম-এর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, মেধাবিকাশে সিজেডএম সবচেয়ে বেশি কাজ করে থাকে। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের সাড়ে ১৭ হাজার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে ৩০ মাস ধরে চার হাজার টাকা করে ‘জিনিয়াস উচ্চ বৃত্তি’ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ বছরও ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, সারা দেশে তাদের ৬০টির বেশি প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে চিকিৎসক ও প্যারামেডিকরা নিয়মিত সেবা প্রদান করছেন এবং বিনামূল্যে ওষুধও সরবরাহ করা হচ্ছে।
আগামী শনিবারের এই ফেয়ারের উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন। এবারের যাকাত ফেয়ারে তিনটি পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























