ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জুলাই সনদ ও গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আলী রীয়াজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই সনদের মূল কথা হলো মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা, যা প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। তিনি আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এই সভার আয়োজন করে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন, “অনেক রক্তক্ষয়ী পথ পাড়ি দিয়ে ৫৪ বছর পর আবারও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। আমরা এই সুযোগ হেলায় হারাবো না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই সনদ প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য রাষ্ট্র কোনো বৈষম্য করবে না। এই সনদ নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করবে।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যাপক সংস্কার করা অপরিহার্য। আর সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলা সময়ের দাবি। তিনি সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণের অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এতদিন সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি, যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, গণভোটের জয়ের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন সম্ভব।

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বিগত সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “অতীতে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব কিছু হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ— এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হয়ে থাকে।”

সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে ড. রীয়াজ বলেন, এটি নিজ দলের সংসদ সদস্যদের মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেওয়ার মতো। এই ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক বিকাশে বিশাল বাধা। এই ব্যবস্থার উত্তরণে সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দলের অনুগত থাকার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যরা স্বাধীন মতামত প্রদান করতে পারবেন— এমন প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলো যেন সম্মানের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে পারি, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যে সমাজে আমার সন্তানের পরিচয় নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা, অর্জিত জ্ঞান ও প্রচেষ্টার ওপর।” তিনি গণভোট নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচার, যেমন— ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকবে না— এসবকে ‘বোগাস’ আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত না হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব জয়দত্ত বড়ুয়া এবং খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পিউস কস্তা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতার দম্ভ ক্ষণস্থায়ী: ইতিহাসের শিক্ষা

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জুলাই সনদ ও গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আলী রীয়াজ

আপডেট সময় : ১০:২৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই সনদের মূল কথা হলো মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা, যা প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। তিনি আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এই সভার আয়োজন করে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন, “অনেক রক্তক্ষয়ী পথ পাড়ি দিয়ে ৫৪ বছর পর আবারও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। আমরা এই সুযোগ হেলায় হারাবো না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই সনদ প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য রাষ্ট্র কোনো বৈষম্য করবে না। এই সনদ নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করবে।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যাপক সংস্কার করা অপরিহার্য। আর সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলা সময়ের দাবি। তিনি সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণের অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এতদিন সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি, যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, গণভোটের জয়ের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন সম্ভব।

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বিগত সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “অতীতে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব কিছু হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ— এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হয়ে থাকে।”

সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে ড. রীয়াজ বলেন, এটি নিজ দলের সংসদ সদস্যদের মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেওয়ার মতো। এই ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক বিকাশে বিশাল বাধা। এই ব্যবস্থার উত্তরণে সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দলের অনুগত থাকার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যরা স্বাধীন মতামত প্রদান করতে পারবেন— এমন প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলো যেন সম্মানের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে পারি, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যে সমাজে আমার সন্তানের পরিচয় নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা, অর্জিত জ্ঞান ও প্রচেষ্টার ওপর।” তিনি গণভোট নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচার, যেমন— ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকবে না— এসবকে ‘বোগাস’ আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত না হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব জয়দত্ত বড়ুয়া এবং খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পিউস কস্তা।