ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যুগান্তকারী অধ্যাদেশ জারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকলের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর পরিধি সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত হবে, একই সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থিত সরকারের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, লিঙ্গ, জেন্ডার পরিচয় বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষাঙ্গন সৃষ্টি করাই এই অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য।

নতুন এই অধ্যাদেশে যৌন হয়রানির একটি সুদূরপ্রসারী সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। এর আওতায় শারীরিক, মৌখিক, অ-মৌখিক, ডিজিটাল ও অনলাইন আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিকেও এর পরিধির মধ্যে আনা হয়েছে।

অধ্যাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সকল প্রযোজ্য কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (ICC) গঠন বাধ্যতামূলক করা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কমিটিগুলো গঠন করতে হবে। কমিটির কাজ হবে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা, তদন্তকালীন সময়ে অভিযোগকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করা। শাস্তির মধ্যে তিরস্কার থেকে শুরু করে পদাবনতি, চাকরিচ্যুতি অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় অধ্যাদেশটি ‘সার্ভাইভার-কেন্দ্রিক’ পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। অভিযোগের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে সুবিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ করতে পারেন।

যেসব অসংগঠিত খাতে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গঠিত এই কমিটিগুলো সকল নাগরিককে অভিযোগ জানানোর কার্যকর সুযোগ দেবে।

অধ্যাদেশটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকার বিশ্বাস করে, এই অধ্যাদেশটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রদান করবে। এর মাধ্যমে একটি সম্মানজনক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ অবনতি: ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫২তম অবস্থান

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যুগান্তকারী অধ্যাদেশ জারি

আপডেট সময় : ০৮:০০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকলের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর পরিধি সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত হবে, একই সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থিত সরকারের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, লিঙ্গ, জেন্ডার পরিচয় বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষাঙ্গন সৃষ্টি করাই এই অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য।

নতুন এই অধ্যাদেশে যৌন হয়রানির একটি সুদূরপ্রসারী সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। এর আওতায় শারীরিক, মৌখিক, অ-মৌখিক, ডিজিটাল ও অনলাইন আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিকেও এর পরিধির মধ্যে আনা হয়েছে।

অধ্যাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সকল প্রযোজ্য কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (ICC) গঠন বাধ্যতামূলক করা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কমিটিগুলো গঠন করতে হবে। কমিটির কাজ হবে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা, তদন্তকালীন সময়ে অভিযোগকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করা। শাস্তির মধ্যে তিরস্কার থেকে শুরু করে পদাবনতি, চাকরিচ্যুতি অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় অধ্যাদেশটি ‘সার্ভাইভার-কেন্দ্রিক’ পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। অভিযোগের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে সুবিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ করতে পারেন।

যেসব অসংগঠিত খাতে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গঠিত এই কমিটিগুলো সকল নাগরিককে অভিযোগ জানানোর কার্যকর সুযোগ দেবে।

অধ্যাদেশটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকার বিশ্বাস করে, এই অধ্যাদেশটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রদান করবে। এর মাধ্যমে একটি সম্মানজনক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে।