পারিবারিক অপরাধ দমন, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং নারী ও শিশুর সুরক্ষা জোরদারে ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। এই নতুন অধ্যাদেশটি পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০-কে রহিত করে একটি অধিকতর পরিপূর্ণ ও সময়োপযোগী আইনি কাঠামো প্রবর্তন করেছে, যা ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক প্রতিকার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করবে।
সরকারের লক্ষ্য হলো, পরিবারকে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তোলা এবং সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের জন্য দ্রুত সুরক্ষা, নিরাপদ বাসস্থান, চিকিৎসা, আইনগত সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। অধ্যাদেশটিতে ‘পারিবারিক সহিংসতা’র সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে, যার আওতায় শারীরিক, মানসিক, যৌন এবং আর্থিক নির্যাতন সবই অন্তর্ভুক্ত। বিশেষত, মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষুণ্ণকারী আচরণ ও ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত মানসিক নির্যাতনকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আধুনিক সময়ের সহিংসতার রূপগুলোকে মোকাবিলায় সুযোগ তৈরি করবে।
ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষায় নতুন অধ্যাদেশটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
অংশীদারি বাসগৃহে বসবাসের অধিকার: সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যাতে বাসস্থান থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
দ্রুত সুরক্ষা আদেশ: আদালতের মাধ্যমে সহিংসতা, হুমকি, যোগাযোগ, কর্মস্থল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশসহ নির্দিষ্ট আচরণে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করা যাবে।
বসবাস আদেশ: বেদখল রোধ, বিকল্প বাসস্থান বা ভাড়া প্রদানের নির্দেশ, প্রয়োজনে প্রতিপক্ষকে সাময়িক উচ্ছেদ এবং ব্যক্তিগত কাগজপত্র ও সম্পদ উদ্ধারের বিধান রাখা হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ ও ভরণপোষণ: শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং এককালীন বা মাসিক ভরণপোষণের বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে বেতন বা মজুরি থেকে কর্তনের মাধ্যমেও তা আদায় করা যাবে।
শিশুর সাময়িক তত্ত্বাবধান: শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নিরাপদ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা হবে। মামলা চলাকালে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে অধ্যাদেশে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে; অধিকাংশ আবেদন ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, সুরক্ষা, বসবাস বা ক্ষতিপূরণ আদেশসহ আদালতের কোনো আদেশ লঙ্ঘন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োগকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, এই অধ্যাদেশ পরিবারে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ, যা নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
রিপোর্টারের নাম 
























