ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ: প্রথম সংসদ অধিবেশনেই আইন পাসের তাগিদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সম্প্রতি অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)। আসন্ন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং এ প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানিগুলোর অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের এই সংগঠন।

রাজধানীর বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত আত্মা’র এক সভায় সংগঠনটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ৫৬ জন সদস্যের সামনে এসব বিষয়ে আলোকপাত করেন আত্মা’র কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞা’র হাসান শাহরিয়ার। বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন চ্যানেল আই-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর মাশরুর জামান রনি, আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ এবং সদস্যসচিব এবিএম জুবায়ের।

সভায় জানানো হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি যদি আইন আকারে সংসদে গৃহীত হয়, তবে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জনস্বাস্থ্যে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনজাত পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের প্রবণতাও হ্রাস পাবে। নারী, শিশুসহ অধূমপায়ী জনগোষ্ঠী পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকবে। সামগ্রিকভাবে দেশে তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এর স্থায়ী সুফল পেতে এটিকে আইনে রূপান্তর করা অপরিহার্য। অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে এটি বাতিল বলে গণ্য হবে, যা জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের জন্য একটি বড় setback হতে পারে বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুমোদনের সময় তামাক কোম্পানিগুলোর নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব চূড়ান্ত অধ্যাদেশ থেকে বাদ পড়ে। এর মধ্যে ছিল খোলা বা খুচরা তামাকপণ্য বিক্রয় বন্ধ, ভ্রাম্যমাণ ও ফেরি করে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধকরণ, তামাক বিক্রয়ে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু এবং তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি (সিএসআর) পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়গুলো। ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারকদের এ বিষয়ে সজাগ থাকতে এবং কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের যে ক্ষতি হয়, তার আর্থিক মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। তাই অধ্যাদেশটি সংসদে পাস হলে সরকার এবং সাধারণ জনগণ উভয়েই আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ অবনতি: ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫২তম অবস্থান

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ: প্রথম সংসদ অধিবেশনেই আইন পাসের তাগিদ

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সম্প্রতি অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)। আসন্ন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং এ প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানিগুলোর অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের এই সংগঠন।

রাজধানীর বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত আত্মা’র এক সভায় সংগঠনটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ৫৬ জন সদস্যের সামনে এসব বিষয়ে আলোকপাত করেন আত্মা’র কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞা’র হাসান শাহরিয়ার। বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন চ্যানেল আই-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর মাশরুর জামান রনি, আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ এবং সদস্যসচিব এবিএম জুবায়ের।

সভায় জানানো হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি যদি আইন আকারে সংসদে গৃহীত হয়, তবে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জনস্বাস্থ্যে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনজাত পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের প্রবণতাও হ্রাস পাবে। নারী, শিশুসহ অধূমপায়ী জনগোষ্ঠী পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকবে। সামগ্রিকভাবে দেশে তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এর স্থায়ী সুফল পেতে এটিকে আইনে রূপান্তর করা অপরিহার্য। অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে এটি বাতিল বলে গণ্য হবে, যা জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের জন্য একটি বড় setback হতে পারে বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুমোদনের সময় তামাক কোম্পানিগুলোর নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব চূড়ান্ত অধ্যাদেশ থেকে বাদ পড়ে। এর মধ্যে ছিল খোলা বা খুচরা তামাকপণ্য বিক্রয় বন্ধ, ভ্রাম্যমাণ ও ফেরি করে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধকরণ, তামাক বিক্রয়ে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু এবং তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি (সিএসআর) পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়গুলো। ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারকদের এ বিষয়ে সজাগ থাকতে এবং কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের যে ক্ষতি হয়, তার আর্থিক মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। তাই অধ্যাদেশটি সংসদে পাস হলে সরকার এবং সাধারণ জনগণ উভয়েই আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে।