দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক বোঝা লাঘব করতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল সভায় দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তারেক রহমান বলেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষকদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নানা প্রতিকূলতা ও ঋণের চাপে প্রান্তিক কৃষকরা প্রতিনিয়ত দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। তাদের স্বস্তি দিতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ক্ষুদ্র ঋণের বোঝা থেকে কৃষকদের মুক্তি দেওয়া হবে। এই পরিকল্পনার আওতায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করার উদ্যোগ নেবে সরকার।
কৃষিঋণ মওকুফের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের বিষয়েও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার ফলে দেশের একটি বিশাল অঞ্চলের কৃষি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে রয়েছে। পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির বিশাল আধার নিশ্চিত হবে, যা সেচ কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি লবণাক্ততা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এটি কেবল কৃষি নয়, বরং সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষায় একটি মাইলফলক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, কেবল গালভরা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণই হবে তাদের আগামীর লক্ষ্য। কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় সারের ভর্তুকি নিশ্চিত করা এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই ঘোষণা মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমর্থন লাভ এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। বিশেষ করে পদ্মা ব্যারেজের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মূলত একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























