ঢাকা ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কমনওয়েলথ ও ইইউর বিশাল বহর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন এবং পরবর্তীতে জুলাই মাসে প্রস্তাবিত সংস্কার সংশোধনীর গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে বড় আকারের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ে তারা ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকবে।

লন্ডন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড (শার্লি বচওয়ে) জানিয়েছেন, ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডো ১৪ সদস্যের এই শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ দলের নেতৃত্ব দেবেন। এই দলে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম ও নির্বাচনী প্রশাসন বিশেষজ্ঞারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পুরো দলটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে সংস্থাটির নির্বাচনী সহায়তা বিভাগের প্রধান লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ টিম। কমনওয়েলথ জানিয়েছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া কতটা বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ হচ্ছে তা মূল্যায়ন করা। পর্যবেক্ষক দলটি দেশের প্রচলিত আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের প্রতিবেদন পেশ করবে।

কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলে মালদ্বীপের সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ এবং সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিসসহ মালয়েশিয়া, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাজ্যের মতো বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা থাকছেন।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের এ যাবৎকালের অন্যতম বড় পর্যবেক্ষণ মিশন পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রসহ নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার প্রায় ২০০ জন প্রতিনিধি এই মিশনে অংশ নেবেন। লাটভিয়ার সংসদ সদস্য ইভারস ইজাবস এই মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অস্ট্রিয়া, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের আরও সাতজন সংসদ সদস্য বাংলাদেশ সফর করবেন।

ইতোমধ্যেই গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে ইইউর একটি কোর টিম বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ১১ জন বিশ্লেষকের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি নির্বাচনের আইনি, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা দিকগুলো খতিয়ে দেখছে। এছাড়া গত ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের সবকটি প্রশাসনিক বিভাগে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে তাদের সঙ্গে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। নির্বাচনের দিন তারা ভোট গ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। ইইউ স্পষ্ট করেছে যে, তাদের পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলবেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবেন না।

সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশাল আন্তর্জাতিক মিশনের সফর সমন্বয় করছেন সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই ব্যাপক আগ্রহ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর বহির্বিশ্বের আস্থার প্রতিফলন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে।

উল্লেখ্য, আসন্ন এই জাতীয় নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ প্রায় ২,০০০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশ্ব সম্প্রদায়ের এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ অবনতি: ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫২তম অবস্থান

বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কমনওয়েলথ ও ইইউর বিশাল বহর

আপডেট সময় : ০৭:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন এবং পরবর্তীতে জুলাই মাসে প্রস্তাবিত সংস্কার সংশোধনীর গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে বড় আকারের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ে তারা ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকবে।

লন্ডন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড (শার্লি বচওয়ে) জানিয়েছেন, ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডো ১৪ সদস্যের এই শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ দলের নেতৃত্ব দেবেন। এই দলে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম ও নির্বাচনী প্রশাসন বিশেষজ্ঞারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পুরো দলটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে সংস্থাটির নির্বাচনী সহায়তা বিভাগের প্রধান লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ টিম। কমনওয়েলথ জানিয়েছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া কতটা বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ হচ্ছে তা মূল্যায়ন করা। পর্যবেক্ষক দলটি দেশের প্রচলিত আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের প্রতিবেদন পেশ করবে।

কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলে মালদ্বীপের সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ এবং সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিসসহ মালয়েশিয়া, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাজ্যের মতো বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা থাকছেন।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের এ যাবৎকালের অন্যতম বড় পর্যবেক্ষণ মিশন পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রসহ নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার প্রায় ২০০ জন প্রতিনিধি এই মিশনে অংশ নেবেন। লাটভিয়ার সংসদ সদস্য ইভারস ইজাবস এই মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অস্ট্রিয়া, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের আরও সাতজন সংসদ সদস্য বাংলাদেশ সফর করবেন।

ইতোমধ্যেই গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে ইইউর একটি কোর টিম বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ১১ জন বিশ্লেষকের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি নির্বাচনের আইনি, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা দিকগুলো খতিয়ে দেখছে। এছাড়া গত ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের সবকটি প্রশাসনিক বিভাগে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে তাদের সঙ্গে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। নির্বাচনের দিন তারা ভোট গ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। ইইউ স্পষ্ট করেছে যে, তাদের পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলবেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবেন না।

সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশাল আন্তর্জাতিক মিশনের সফর সমন্বয় করছেন সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই ব্যাপক আগ্রহ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর বহির্বিশ্বের আস্থার প্রতিফলন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে।

উল্লেখ্য, আসন্ন এই জাতীয় নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ প্রায় ২,০০০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশ্ব সম্প্রদায়ের এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।