আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েই চলেছে। তবে এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর শক্ত অবস্থান। দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করায় ভোটের মাঠে জোটের প্রার্থীকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে জোটের একক আধিপত্য থাকলেও বর্তমানে বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতিতে সেই ভোটব্যাংকে ফাটল ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক প্রকাশ্যেই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন, যা জোটের প্রার্থীর জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগ ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা মূল প্রার্থীর জয়ের পথে বড় অন্তরায় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জোটের প্রার্থীকে নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ রয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে প্রার্থী নির্বাচন করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা মনে করছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং দলীয় কোন্দল নিরসন না হলে ভোটের লড়াইয়ে বড় ধরনের চমক আসতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোটের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে নানামুখী তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসিয়ে দেওয়া এবং ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মানিয়ে নিতে দফায় দফায় বৈঠক চললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান আসেনি। বরং দিন যত গড়াচ্ছে, মাঠপর্যায়ে বিভক্তি ততই স্পষ্ট হচ্ছে।
সাধারণ ভোটারদের মতে, এই আসনে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীর ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি শেষ পর্যন্ত দলীয় বিভক্তি দূর করা সম্ভব না হয়, তবে ভোটের সমীকরণ পাল্টে গিয়ে এর সরাসরি সুবিধা নিতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য রাজনৈতিক দলগুলো। বর্তমানে এই আসনে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সবার নজর এখন চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফলের দিকে।
রিপোর্টারের নাম 
























