ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

কক্সবাজার বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক বিশেষ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিমানবন্দরের ডিপার্চার লাউঞ্জে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত বছরের ২ জুলাইয়ের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকল মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তরগুলোতে মাসিক ভিত্তিতে গণশুনানি আয়োজনের নির্দেশনা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মোঃ নূর-ই-আলম এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ নুরুল হুদা। এছাড়া বেবিচকের পরিচালক (সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ও উপসচিব মোঃ সানিউল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক (রুঃ দাঃ) মোঃ গোলাম মোর্তজা হোসেন।

গণশুনানিতে বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীসাধারণ, বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন। সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে যাত্রীদের অভিযোগ, পরামর্শ ও প্রত্যাশার কথা শোনেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আলোচনায় যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি, ফ্লাইটের সময়সূচি ঠিক রাখা, অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা, যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, চেক-ইন কাউন্টার ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শৌচাগার ও ওয়েটিং লাউঞ্জের আধুনিকায়ন, খাবার ও পানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও যাত্রীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের দ্রুত অবহিত করা এবং এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

গণশুনানিতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ এটিকে আন্তর্জাতিক মানের এবং একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোকপাত করা হয়। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার ও রেসকিউ প্রস্তুতি এবং জনবলের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

উপস্থিত যাত্রী ও অংশীজনদের দেওয়া বিভিন্ন সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের আশ্বাস দেয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত গণশুনানি বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং যাত্রীসেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ অবনতি: ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫২তম অবস্থান

কক্সবাজার বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৬:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজার বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক বিশেষ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিমানবন্দরের ডিপার্চার লাউঞ্জে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত বছরের ২ জুলাইয়ের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকল মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তরগুলোতে মাসিক ভিত্তিতে গণশুনানি আয়োজনের নির্দেশনা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মোঃ নূর-ই-আলম এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ নুরুল হুদা। এছাড়া বেবিচকের পরিচালক (সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ও উপসচিব মোঃ সানিউল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক (রুঃ দাঃ) মোঃ গোলাম মোর্তজা হোসেন।

গণশুনানিতে বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীসাধারণ, বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন। সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে যাত্রীদের অভিযোগ, পরামর্শ ও প্রত্যাশার কথা শোনেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আলোচনায় যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি, ফ্লাইটের সময়সূচি ঠিক রাখা, অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা, যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, চেক-ইন কাউন্টার ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শৌচাগার ও ওয়েটিং লাউঞ্জের আধুনিকায়ন, খাবার ও পানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও যাত্রীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের দ্রুত অবহিত করা এবং এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

গণশুনানিতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ এটিকে আন্তর্জাতিক মানের এবং একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোকপাত করা হয়। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার ও রেসকিউ প্রস্তুতি এবং জনবলের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

উপস্থিত যাত্রী ও অংশীজনদের দেওয়া বিভিন্ন সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের আশ্বাস দেয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত গণশুনানি বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং যাত্রীসেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলবে।